চুয়াডাঙ্গায় রাত থেকে চলছে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে বেড়ে গেছে শীতের তীব্রতা। হঠাৎ বৃষ্টির ঘনঘটায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। হিমেল বাতাসের সাথে বৃষ্টি যোগ হওয়ায় বেড়েছে শীতের প্রকোপ।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও শুক্রবার ভোর থেকে মেঘের গর্জনের সাথে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি চলছে। বেলা বাড়লেও রোদের দেখা মেলেনি। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
শীত ও বৃষ্টির অসহনীয় মাত্রায় দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। সকালে কাজের সন্ধানে বের হওয়া নিম্নআয়ের কর্মজীবী মানুষ পড়েছেন নব থেকে বেশি বিপাকে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ। সকাল ৯টার আগে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৫-৬ কিলোমিটার বেগেও বয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার সারাদিন বৃষ্টির হবে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া অফিস।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ পার্ক লেনের বাসিন্দা নাজমুল হক স্বপন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে, শুক্রবার ভোর থেকেও গুঁড়িগুঁড়ি হচ্ছে। সেই সাথে মাঝেমাঝে দমকা বাতাসও হচ্ছে। সূর্য নেই, বৃষ্টিতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে অনেক। এতে আমাদের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী সুমন পারভেজ খান বলেন, ভোর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতাও বেশি মনে হচ্ছে। দরকার ছাড়া বাড়ি থেকে কেউ বের হচ্ছেন না। তাই সকাল থেকে বিক্রিও নেই।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল চত্বর এলাকার শিশুদের খেলনা ও ঝালমুড়ি বিক্রেতা (হকার) শুকুর আলী বলেন, আমি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি ও শিশুদের খেলনা বিক্রি করি। কিন্তু বৃষ্টি আসায় হাসপাতালের বারান্দার ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। আসার পর ৩০ টাকার ঝালমুড়ি বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কোনো বিক্রি নেই। বৃষ্টির কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ না থাকায় আমার বিক্রিও নেই।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অধিদফতরের ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ১.৬ মিলিমিটার এবং শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ১৪.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকবে। মেঘ কেটে গেলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে জেলার উপর দিয়ে।
এদিকে, অসময়ের গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে মাঘ মাসের হাড়কাঁপানো শীত জেঁকে বসেছে। আরো দু’-একদিন এ রকম আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন