আকিমুল ইসলাম:
দীর্ঘ ১০ বছর পর আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতঃমধ্যে ভোটের মাঠ গরম করতে ব্যস্ত প্রার্থীরা। প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, পাখিভ্যানসহ নানা ধরণের যানবাহন ছাড়াও মাইক ও বক্স নিয়ে চলছে প্রার্থীদের ভোটের প্রচারণা। প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ না হলেও মাঠ চাঙ্গা করে রাখছেন সম্ভাব্য সকল চেয়ারম্যানসহ মেম্বার প্রার্থীরা। মনোনয়ন জমা ও যাচাই-বাছাই পর্ব শেষ করে প্রতীক চেয়ে আবেদনের পর্ব শেষ করেছেন প্রার্থীরা।
তবে মেম্বার প্রার্থীরা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না চাইলেও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিষয়টা ভিন্নভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চেয়ারম্যান প্রার্থী চারজন হলেও তিনজনের প্রতীক এখনও অনির্দিষ্ট। তবে সকল সম্ভব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কে কোন প্রতীক পছন্দ করে আবেদন করেছেন, সেটা ভোটারদের সাথে গল্প করাটা লক্ষ্য করা গেছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত শুকুর আলী নৌকা প্রতীক পেলেও আনারস প্রতীকে মিজানুর রহমান টিপু, ঘোড়া প্রতীকে ফারুক হোসেন ও ইসলামি আন্দোলনের হাতপাখা মার্কায় আব্দুর রাজ্জাক পছন্দের প্রতীকে প্রার্থিতা হিসেবে আবেদন করেছেন বলে জানান। তবে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে একই প্রতীক চেয়ে একের অধিক প্রার্থী আবেদন না করলেও মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যে একই প্রতীকে তিনজন পর্যন্ত আবেদন করেছেন বলেও জানা গেছে। আগামীকাল রোববার (২৩ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
জানা গেছে, সাবেক চেয়ারম্যান আকতার হোসেন নানা আইনি জটিলতার কারণে বিগত ৫ জুন ২০১১ সালের নির্বাচন হবার পর পরবর্তীতে কোনো নির্বাচন না হওয়ায় প্রায় ১০ বছর চেয়ারম্যানের দায়িক্ত পালন করেন। কিন্তু তিনি নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে গত বছরের ২৩শে সেপ্টেম্বর তিনি তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের দায়িক্ত থেকে অবসরে যান। তারপর থেকে নানা ভোগান্তিতে পড়ে এলাকার সাধারণ জনগণ। তবে অনেকদিন পর নির্বাচন পেয়ে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ভোটাররা বলেন, ‘সকল প্রার্থী নানা ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন, তবে সৎ, নিষ্ঠাবান প্রার্থীকেই আমরা মূল্যবান ভোটটা দেব।’
এ বিষয়ে তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জিয়াউর রহমান বলেন, ‘১৬ হাজার ৬২ জন ভোটার নিয়ে তিতুদহ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড গঠিত হয়েছে নতুন করে। তবে চেয়ারম্যান না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। তাই এই নির্বাচনকে নিয়ে আমরাও অনেক খুশি।’
এ বিষয়ে তিতুদহ ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই হারুন বলেন, ভোটের মাঠ ইতঃমধ্যে গরম হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার কথা শুনতে পায়নি। তবে কেউ যদি কোনো ধরনের ঝামেলা সৃষ্টি করে, অবশ্যই তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন