সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দর্শনার ঈশ্বরচন্দ্রপুরে চাঞ্চল্যকর শহিদুল হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল

  • আপলোড তারিখঃ ১৫-০১-২০২২ ইং
দর্শনার ঈশ্বরচন্দ্রপুরে চাঞ্চল্যকর শহিদুল হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল

দর্শনা অফিস:
দর্শনার ঈশ্বরচন্দ্রপুরে চাঞ্চল্যকর শহিদুল হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিট থেকে এজাহারভুক্ত ২ আসামির নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বাদী পক্ষ। এতে বাদী পক্ষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে। চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজহারভুক্ত ২ আসামির নাম বাদ দেওয়ায় নানা প্রশ্নও উঠেছে। এদিকে, আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ ও বাদী পক্ষকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বছরের ৩১ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুরে গ্রামের বড় বসজিদের সামনে চৌরাস্তার মোড়ে ছেলের বন্ধুর ধারালো ছুরিকাঘাতে খুন হন শহিদুল ইসলাম। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে সুজনকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা একই গ্রামের মৃত আ. গফুর মিয়ার ছেলে আমজাদ হোসেন (৪৯), আমজাদ হোসেনের ছেলে মাসুদ রানা ওরফে শামীম হোসেন (২৯), আমজাদ আলীর স্ত্রী বলেহার খাতুন (৪২), মশিউর রহমান ছোটনের স্ত্রী কাজলী খাতুন ওরফে কাজল (৩০) ও মৃত খোদা বক্সর ছেলে সোলায়মান হোসেন ওরফে সলেমান (৩৭)।

এ মামলায় প্রধান আসামি সুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারলেও বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়। পরে এ মামলার একজন আসামি বাদে অন্যরা বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। গ্রেপ্তারের ৫ মাসের মাথায় প্রধান আসামি সুজনসহ অন্যরা জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে বাদীর আনিত অভিযোগ কোর্ড আইনে ৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩০২/৩৪/৫০৬ ধারার অপরাধ সাক্ষ্য প্রমাণে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের প্রকাশ্যে আদালতে বিচারের নিমিত্তে অভিযোগপত্র দাখিল এবং এজাহার নামীয় ১। মোছা. কাজলী খাতুন ওরফে কাজল (৩২) স্বামী মশিউর রহমান ছোটন পিতা আলতাফ হোসেন ও ২। মো. সোলায়মান হোসেন ওরফে সোলেমান (৩৭) পিতা মৃত্য খোদা বক্সো। মাতা মোছা. সুফিয়া খাতুন উভয় সাং ঈশ্বরচন্দ্রপুর (ঈশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসর্জিদপাড়া) থানা দর্শনা জেলা চুয়াডাঙ্গা দয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণে বাদির আনিত অভিযোগ প্রথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে অত্র মামলার দায় হতে অব্যাহতি দানের প্রার্থনা জানিয়ে তার স্বপক্ষে মতামত ব্যক্ত করে ঊর্ধ্বন কর্তৃপক্ষের আদেশের জন্য সাক্ষীর স্মারকলিপি দাখিল করি।

এই মামলার বাদী নিহত শহিদুল ইসলামের মেয়ে আমেনা খাতুন বলেন, চার্জশিট আমাদের মনঃপুত হয়নি। চার্জশিটে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। প্রতিবেদনের বিপক্ষে না রাজি দিয়ে আবেদন করব। তাছাড়া আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়ায় আমরা চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। আমি এ ঘটনায় পুলিশের সহযোগিতা কামনা করছি।’

এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম লুৎফুল কবিরের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি সাক্ষীদের সাক্ষী মোতাবেক তদন্তপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। বাদীর চার্জশিটের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি থাকলে বিজ্ঞ আদালতে না রাজির আবেদন জানাতে পারবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ জানান, ‘তদন্তপূর্বক আমি যা পেয়েছি, সেটাই বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছি।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ জুলাই শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের চৌরাস্তা মোড় বড় মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল আশানুরের ছেলে জাকির (১৬) শহিদুলের ছেলে ইলফাজ (১৬)। এসময় তারা তাদের নিকটবর্তী স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামের বড় মসজিদ পাড়ার আমজাদের ছেলে সুজনকে ইঙ্গিত করে ব্যঙ্গ করে কথাবার্তা বলে। এতে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে জাকিরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এসময় জাকির ও ইলফাজ সম্পর্কে চাচাত ভাই হওয়ায় ইলফাজ জাকিরের পক্ষে কথা বলেন। ফলে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে জাকির ও ইলফাজকে মারধর করে। পরে ইলফাজের বাবা শহিদুল ইসলাম বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। এতে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি থেকে ধারালো ছুরি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শহিদুল ইসলাম ও ইলফাজকে ছুরিকাঘাত করে। এতে শহিদুল ও তার ছেলে ইলফাজ হোসেন, ফরিদ হোসেন, জাকির হোসেন ও নিলা খাতুন আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। বুকে, পিঠে ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের ফলে রক্তক্ষরণে শহিদুলের মৃত্যু হয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী