জীবননগরে চলন্ত ট্রেনে কেটে নাজির হোসেন (১৭) নামের এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার কুবরেগাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি নাজিরের ওপর দিয়ে চলে গেলে চার খণ্ড হয়ে যায় তার দেহ। এতে ঘটনাস্থলেই নাজিরের মৃত্যু হয়। নিহত নাজির হোসেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাজদিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, বেলা ১১টার দিকে মাঠের কাজ শেষে নাজির বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। এসময় ট্রেন লাইনের ধারে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল সে। এসময় হঠাৎ করেই ট্রেন চলে আসলে লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে পড়ে নাজির। মুহূর্তের মধ্যে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন তাকে ধাক্কা দেয়। ট্রেনের চাকায় কেটে নাজিরের দেহ চার খণ্ড হয়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় মেম্বার জহিরুল হক জানান, ‘নাজির হোসেন মাঠের বিভিন্ন কাজ করতো। সে মাঠে কাজ করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। কুবরোড়ী গ্রামের ট্রেন লাইন পার হয়ে তাকে বাড়ি ফিরতে হয়। কিন্তু কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে কুবরোড়ী গ্রামের ট্রেন লাইন পার হওয়ার সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন তাকে ধাক্কা দেয়। ট্রেনের চাকায় কেটে তার দেহ চার খণ্ড হয়ে গেলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। তবে এর পূর্বে সে দুইবার বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিল। অনেকেই ধারণা করছেন, নাজির হয়তো আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত নাজির হোসেনের পিতা আনোয়ার জানান, ‘নাজিরের মাথার সমস্য ছিল। এর আগেও সে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। মায়ের ওপর রাগ করে সে আত্মহত্যা করেছে।’
জীবননগর উপজেলার শাহাপুর ক্যাম্প ইনচার্জ (এসআই) জমির হোসেন বলেন, ‘ট্রেনে কেটে নাজির নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় লোকজন বস্তায় ভরে নিহত নাজিরের চার খণ্ড দেহ তার বাড়িতে নিয়ে যায়। ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে এটাকে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে।’
এদিকে, খবর পেয়ে যশোর রেলওয়ে থানার এসআই শহীদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে পরিবারের কারও কোনো আপত্তি না থাকায় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লাশ দাফনের অনুমতি প্রদান করেন। বাদ আছর বাজদিয়া দক্ষিণপাড়ার ঈদগা ময়দানে নামাজে জানাজা শেষে নজির হোসেনের লাশ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সমীকরণ প্রতিবেদন