আরিফ হাসান, হিজলগাড়ী:
বিয়ের গেট সাজিয়ে ও প্যান্ডেল নির্মাণ করে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে চুয়াডাঙ্গায় দরিদ্র দুই প্রতিবন্ধী যুবক-যুবতীর বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই বিয়েতে উৎসবে মেতে উঠেছিলো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ। গ্রাম-বাংলার রীতি অনুযায়ী উভয় পরিবারের সম্মতিতে ইসলামী শরীয়াত মেনে দুই প্রতিবন্ধীর বিবাহ সম্পন্ন করা হয়। গতকাল সোমবার দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়নের নেহালপুর গ্রামের বাদল হোসেনের ছেলে শারীরিক ও আংশিক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক রাজিবুল হাসান মাইক্রোবাস সাজিয়ে ১৫ জন বরযাত্রীসহ কনে পাশ্ববর্তী তিতুদহ ইউনিয়নের বলদিয়া গ্রামের আ. রাজ্জাকের মেয়ে বৃষ্টি খাতুন ওরফে অঞ্জনাকে বিয়ে করতে আসেন। দুই প্রতিবন্ধী যুবক-যুবতির বিয়ে হচ্ছে শুনে কনে বাড়ীতে উৎসুক জনতা ভিড় করে।
এই বিয়ের মূল উদ্যোক্তা নেহালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা ইকরামুল হক বেলালী বলেন, রাজিবুল হাসান আমার প্রতিবেশী, তার সাথে দেখা হলেই সে আমার কাছে বিয়ের কথা বলে। আমি এক পর্যায়ে তার বাড়ীর লোকজনের সঙ্গে কথা বলি। তারা সম্মত্তি দেওয়ার পর মেয়ে দেখা শুরু করি। স্থানীয় একজনের মাধ্যমে বলদিয়া গ্রামে রাজিবুলের মতই আর একজন প্রতিবন্ধী মেয়ের সন্ধান পায়। আমি তাদের বাড়ীতে এসে কথা বলি। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিবাহের আয়োজন করা হয়। বিয়েতে দেনমোহর ধার্য করা হয় ১ হাজার ১ টাকা। বিয়েতে বরযাত্রী হিসেবে যান বেগমপুর ইউনিয়নের তরুন সমাজ সেবক শামীম হোসেন মিজি, হিজলগাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি আরিফ হাসান, ইউপি সদস্য আক্কাস আলী প্রমুখ।
ব্যতিক্রমি এই বিয়েতে উপস্থিত হয়ে শামীম হোসেন মিজি বলেন, আমাদের সমাজে অনেক অটিস্টিক মানুষ আছে যাদের আমরা অবহেলার চোখে দেখি। বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করছে। আজকের এই আয়োজন অত্র এলাকায় প্রথম তবে এরপর এমন আয়োজন আরো হবে, তিনি অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধীদের পাশে দাড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান করেন।
ইউপি সদস্য আক্কাস আলী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসাবে অনেক বিয়ের বরযাত্রীতে সঙ্গী হয়ে গিয়েছি। তবে আজকের এই দিনটি ভিন্ন রকম আনন্দের। এদিকে দুই প্রতিবন্ধী যুবক যুবতির বিয়ে হচ্ছে সংবাদ পেয়ে বিয়ে বাড়ীতে শতাধিক মানুষ ভিড় করেন। তারা সবাই এধরনের উদ্যোগ গ্রহন করার জন্য বর ও কনে পক্ষকে সাধুবাদ জানান। বিয়ের বিষয়ে বর রাজিবুল ও কনে বৃষ্টি খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তারা হাসিমুখে নিজেদের উল্লাস প্রকাশ করে যা দেখে উপস্থিত সকলেই আনন্দিত হয়।
সমীকরণ প্রতিবেদন