ভোরের আলো ফোটার পরই গাছিরা খেজুর গাছ থেকে নামাচ্ছেন সুমিষ্ট রস। খেজুরের রস জ্বালিয়ে গুড়, পাঁটালি ও ঝোলাগুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। খাঁটি গুড় ও পাঁটালি কিনতে সকাল থেকে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এ বছর গুড় ও পাঁটালির দাম ভাল। চুয়াডাঙ্গা জীবননগর উৎপাদিত গুড়ের চাহিদা রয়েছে সারা দেশব্যাপী। জীবননগর উপজেলায় এ মৌসুমে গাছিরা প্রায় ১ লাখ খেজুর গাছ কেটে রস আহরণ করছেন। কৃষকরা পতিত জমি, বাড়ির আঙিনা, রাস্তার দু’পাশে ও জমির আইলে খেজুর গাছ লাগান। ৩-৪ বছর পর একটি গাছ থেকে রস পাওয়া যায়। শীত মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে গাছিরা গাছ কেটে ও শুকিয়ে প্রস্তুত করেন রস। রস সংগ্রহের জন্য গাছে মাটির তৈরি কলস বা ভাঁড় ঝুলিয়ে দেন বিকেলে। আর প্রতিদিন ভোরে খেজুর গাছ থেকে রস নামানোর পর জ্বালায় (বড় কড়াই) রস জ্বালিয়ে তৈরি করেন গুড় ও পাঁটালি।
মাটির এক কলস রস জ্বালিয়ে প্রায় ১ কেজি গুড় পাওয়া যায়। প্রতি কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা দরে। আর প্রতি কেজি পাঁটালি বিক্রি হচ্ছে ১১০-১৫০ টাকা দরে। খাঁটি গুড় কিনতে সকাল থেকে ভিড় করেন ক্রেতারা। নতুন গুড় দিয়ে প্রতিটি বাড়িতে তৈরি হচ্ছে পিঠা-পুলি ও পায়েস। শীতে প্রায় চার মাস খেজুর গাছ থেকে গাছিরা রস সংগ্রহ করেন। খেজুর গাছগুলো পরিচর্যা করতে হয় না। তাই অল্প সময়ে একজন কৃষক ও গাছি প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা আয় করতে পারেন। এ উপজেলায় প্রতি শীতে উন্নত মানের গুড়, পাঁটালি পাওয়া যায়। শীতে কষ্ট হলেও আয় ভাল হয় বলে জানান জীবননগর উপজেলার গাছিরা।
উপজেলার খয়েরগুদা গ্রামের গাছি আজিজ মিয়া বলেন, ‘এ বছর শীত বেশি হওয়ার ফলে রসও বেশি হচ্ছে। এছাড়া গত বছররের তুলনায় এ বছর গুড় ও পাটালির দামটাও ভালো। এবং অনান্য বছরের তুলনায় ক্রেতা এবং ব্যাপারীও আসছে বেশি।’ গুড়ের ব্যাপারী আতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি প্রতি বছর এ উপজেলা থেকে খেজুরের গুড় ও পাটালি ক্রয় করতে আসি এ এলাকার গুড় ও পাটালির চাহিদাটা অনেক বেশি এবং ভেজাল কম।’
জীবননগর উপজেলার কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, ‘জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতে খেজুর রস থেকে পাঁটালি ও গুড় তৈরি হচ্ছে। এর চাহিদা চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ দেশে-বিদেশে রয়েছে। তবে খেজুর গাছ গুলো যদি কেটে ইট ভাটায় না দেওয়া হয় তা হলে এক দিন এটি আরো অনেক বৃদ্ধি পাবে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় এ মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ গাছ থেকে ২২০০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা।’
সমীকরণ প্রতিবেদন