মেহেরপুরের গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ এ অঞ্চলের মানুষের কাছে সবচেয়ে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রহণযোগ্য ছিল। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ দখল করে রেখে নানা অনিয়ম ও শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি এবং মানহীন শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই ক্ষোভ এখন প্রতিবাদে পরিণত হয়েছে। শুরু হয়েছে স্কুল বাচাও আন্দোলন। গতকাল শনিবার দুপুরে গাংনী বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশ ও মানববন্ধন করে বিদ্যালয়টি রক্ষার দাবি জানান বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা। ফিরিয়ে দাও আমার গৌরব উজ্জ্বলময় গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ এ স্লোগানে আন্দোলনে নেমেছেন ছাত্রছাত্রীরা। এসময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ থেকে মোশাররফ হোসেনকে দ্রুত অপসারণ ও দুর্নীতির বিচার দাবী করেন প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা।
আয়োজক কমিটির আহবায়ক বাবুল আল ফারুকের সভাপতিত্বে ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন গাংনী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রাক্তন ছাত্র ছানোয়ার হোসেন বাবলু। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহিদুজ্জামান শিপু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন মেঘলা, সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, গাংনী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সেন্টু, সাবেক কাউন্সিলর নবীর উদ্দীনসহ প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম বাবু বলেন, গাংনীর সাবেক স্বতন্ত্র এমপি মকবুল হোসেনের চাচাতো ভাই হওয়ায় মোশাররফ নানা দুর্নীতি অনিয়ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন। তাঁকে তার এমপি ভাই বা সাবেক সচিব ভাই কেউই বাচাতে পারবে না। গাংনীর সাধারণ মানুষ এই দুনীর্তির বিরুদ্ধে সোচ্ছার হয়েছে। তাই সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করুন নয়তো গাংনীর মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে আপনাদের শালা-দুলাভায়ের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেবে। এদিকে দাবি আদায়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি পেশাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজক কমিটির আহবায়ক।
সমীকরণ প্রতিবেদন