শুক্রবার, ২১ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগর কোমর পাড়ায় আধুনিকতার ছোঁয়া

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-১০-২০২১ ইং
জীবননগর কোমর পাড়ায় আধুনিকতার ছোঁয়া
মিঠুন মাহমুদ: জীবননগরে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাল বংশের মৃৎশিল্পীরা। শীতের শুরুতে খেঁজুর গাছে রস সংগ্রহর জন্য গাছিরা যেভাবে খেঁজুর গাছ কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঠিক তেমনভাবে মৃৎশিল্পী (কোমররা) মাটির ভাড় খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের পাত্র) বানানোয় ব্যস্ত পার করছেন। তবে খেঁজুর গাছ কেটে ইটভাটায় পোড়ানো, উচ্চদামে মালামাল ক্রয়সহ সরকারিভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় দিন দিন কোমররা এ কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। যার কারণে তাদের মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। তবে যারা এখনও এ পেশার সঙ্গে আছেন তারা শীতের আগমনীতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মাটির জিনিসপত্র তৈরি করতে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হস্ত চালিত চরকী পরিবর্তে কোমররা এখন ব্যবহার করছে বৈদ্যুতিক মোটর চালিত চরকী। এতে করে তাঁদের সময় ও শ্রম দুটোই কম লাগছে। জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের পাল পাড়ার মৃত নিতাই পালের ছেলে মৃৎশিল্পী সুশান্ত কুমার পাল ও মৃত যুগু চন্দ্র পালের ছেলে সিদাম পালের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘বর্তমান বাজারে জিনিস পত্রের দাম অনেক বেশি হওয়ায় এখন মাটির জিনিসপত্র বানিয়ে তেমন লাভ হচ্ছে না। পরিবার নিয়ে কোনোমতে দু-বেলা খেয়ে দিন যাচ্ছে। এক সময় মাটির তৈরি, ভাড়, কলস, ঝাঝরি, ফুলের টব, পুতুলসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা তৈরি করে মোটামুটি লাভ হত। কিন্তু বর্তমান মাটির জিনিস তৈরি করতে হলে মাটিসহ সমস্থ কিছুই অতিরিক্ত দামে ক্রয় করতে হচ্ছে। সরকারিভাবে যদি কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যেত তাহলে এ কাজটি করে লাভবান হওয়া সম্বব হত। তাছাড়া বর্তমান সময় বাজারে প্লাস্টিকের বিভিন্ন আসবাবপত্রের কদর বেড়ে যাওয়ায় মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা অনেক কম হয়ে গেছে। শুধুমাত্র নিজের গোত্র বজায় রাখতে আর বাপ-দাদার আমলের কাজটি ছাড়তে পারছি না যার ফলে শত কষ্টর মধ্যেই এ কাজটি আমরা করে যাচ্ছি। এদিকে কুমোরপাড়া ঘুরতেই চোখে পড়ে আধুনিক যুগের একটি চমৎকার দৃশ্য। বিদ্যুৎচালিত মোটরের সাহায্যে তৈরি করা হচ্ছে মাটির তৈরি বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র। কথা হয় একইপাড়ার হরিপদ পালের ছেলে নিখিল পালের সাথে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দিন যাবত কষ্ট করে লাঠির সাহায্যে চাকা ঘুরিয়ে মাটির তৈরি ভাড়, কলসসহ বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরি করেছি। তখন দিনে ৪০ থেকে ৫০টি ভাড় তৈরি করেছি। কিন্তু বর্তমান আধুনিক যুগে প্রযুক্তির বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ভাড় তৈরি করতে পারছি। এতে কতরে অল্প সময়ে বেশি জিনিসপত্র তৈরি করা যাচ্ছে এবং শারীরিক পরিশ্রম কম হচ্ছে। তবে মৃৎশিল্পী পুরুষের পাশাপাশি নারীর অবদানটাও অনেকক্ষানি। পুরুষের সঙ্গে সঙ্গে নারীরাও তৈরি করছে বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র। মাটির তৈরি প্রতিটি জিনিসের দুটি অংশ থাকে একটি অংশ পুরুষেরা কাজ করে অপর অংশটির কাজ নারীরা করে থাকে।’ `` মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খানের  সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘এক সময় মনোহরপুর গ্রামে  ১শ ঘরের মত কুমোররা বসবাস করতো। তাদের এক মাত্র আয়ের উৎস্য ছিল মাটির তৈরি জিনিসপত্র। কিন্তু বর্তমান সময়ে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে স্বপরিবারে ভারতে চলে গেছেন। আবার অনেকে এ কাজ ছেড়ে অন্য কোন কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। এখন এখানে অল্প সংখ্যক কুমোররা বসবাস করে। তাছাড়া তারা সংখ্যালঘু হওয়ায় সরকারী ভাবে যে অনুদান আসে আমরা তাদের মধ্যে বিতারণ করে থাকি। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কোমররা এখনও পুরাতন ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তাঁদের হাতের নিদারুন কৌশল দিয়ে মাটি দিয়ে পুতুল, হাড়ি, বিশেষ করে আর মাত্র কয়েকদিন পরেই বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড় পাওয়া যাবে সেখানেও মাটির তৈরি ভাড় ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেগুলো শুধু মাত্র কোমর পল্লীতেই পাওয়া যায়। তবে কোমররা সংখ্যালঘু হওয়ায় সরকারিভাবে যে সমস্থ অনুদান আসে আমরা তাদের  মধ্যে বিতারণ করে থাকি এবং তাদের যদি এই কাজের জন্য কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তা হলে উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরে  যোগাযোগ করলে তারাও সার্বিক সহযোগিতা করবে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

শৈলকূপায় স্বেচ্ছাশ্রমে ১৩ কিলোমিটার খাল পরিষ্কার