মিন্নির জামিন বহাল মুক্তিতে বাধা নেই
- আপলোড তারিখঃ
০৩-০৯-২০১৯
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদন:
বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আটকাতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গিয়েও সাড়া পায়নি রাষ্ট্রপক্ষ। মিন্নির জামিন স্থগিতের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ যে আবেদন করেছিল, তা শুনে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার আদালত গতকাল সোমবার ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন। আর এর ফলে কলেজছাত্রী মিন্নির জামিন বহাল থাকছে এবং তার মুক্তিতে কোনো বাধা থাকছে না বলে তার আইনজীবী জেডআই খান পান্না জানিয়েছেন। পান্না ছাড়াও চেম্বার আদালতে মিন্নির পক্ষে শুনানি করেন এ এম আমিন উদ্দিন ও মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল ও মো. সারোয়ার হোসাইন বাপ্পী। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানিতে উপস্থিত থাকলেও শুনানি করেননি। গত ২৬ জুন রিফাতকে বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করার সময় তাকে বাঁচাতে তার স্ত্রী মিন্নির মরিয়া চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফের করা মামলায় মিন্নি ছিলেন প্রধান সাক্ষী। কিন্তু মিন্নির শ্বশুরই পরে হত্যাকান্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। হত্যাকান্ডের তিন সপ্তাহ পর মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রিফাত হত্যা পরিকল্পনায় তার স্ত্রীও জড়িত ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির গত রোববার বরগুনা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ২৪ জনকে আসামি করে যে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন, সেখানে মিন্নির নাম রাখা হয়েছে আসামির তালিকার ৭ নম্বরে। বরগুনার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই বরগুনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায়। কিন্তু মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী সেদিন আদালতে দাঁড়াননি, যা নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। পাঁচ দিনের রিমান্ডের তৃতীয় দিনেই মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই তরুণী হাকিমের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তার আগের দিনই পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, `মিন্নি হত্যাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং হত্যা পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে মিন্নির যুক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।' তবে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের অভিযোগ, 'নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে' মিন্নিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে পুলিশ। এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের হাত আছে বলেও তার দাবি। হাকিম ও জজ আদালত মিন্নির জামিন আবেদনে সাড়া না দেয়ায় হাইকোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। প্রথম রুল জারি করে তার ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। সেখানে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলার শর্তে মিন্নিকে স্থায়ী জামিন (দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত) দেয়া হয়। ওই জামিন স্থগিত চেয়েই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। কিন্তু চেম্বার আদালত 'নো' অর্ডার দেয়ায় হাইকোর্টের রায়ই বহাল থাকল। রাষ্ট্রপক্ষ এখন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে পারবে। তবে সেজন্য তাদের হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এদিকে রিফাত হত্যার দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রোববার বরগুনা হাকিম আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির।
কমেন্ট বক্স