মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব বসতি দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভায় ডিসি লুৎফুন নাহার

টেকসই আবাসন নিশ্চিতে সবুজায়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি
  • আপলোড তারিখঃ ০৬-১০-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব বসতি দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভায় ডিসি লুৎফুন নাহার

টেকসই আবাসন নিশ্চিতে পরিকল্পিত নগরায়ণ, সবুজায়ন ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তিনি বলেছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই টেকসই আবাসন নিশ্চিত হয় না; পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাও থাকতে হবে।


‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় গণপূর্ত বিভাগের আয়োজনে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের কোর্ট মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক-উজ-জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় নিজেদের স্বার্থ নিয়ে চিন্তা করি। দ্রুত আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করি। একটি বিভাগ টেন্ডার করবে, কাজ হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগই কাজের তদারকি করবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে তদারকি করাটাই যেন অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।


তিনি বলেন, একজন মানুষ তার আয়ের বড় একটি অংশ আবাসনের পেছনে ব্যয় করেন। সেই আবাসন অবশ্যই টেকসই হতে হবে। টেকসই আবাসনে সুন্দর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা থাকতে হবে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশে^ এখনো প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ বস্তিতে বসবাস করেন। একটি বস্তিও এক ধরনের আবাসন, যদিও তা টেকসই আবাসন নয়।


ঠিকাদারদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আপনারা অবশ্যই লাভ করবেন। কারণ আপনাদেরও সংসার ও পরিবার আছে। তবে সেই লাভ যেন অনিয়ন্ত্রিত না হয়। একটি কাজ পাওয়া মানে ১০-২০ বছর বসে খাওয়ার সনদ পাওয়া-এমন মানসিকতা পরিহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সার্কিট হাউস, অফিস ও বাসা মিলিয়ে আমার কাছে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এই টাকার প্রতিটি হিসাব আমি তদারকি করব। তাই আপনারা হিসাব করে টেন্ডার দাখিল করবেন।


লুৎফুন্নাহার বলেন, ‘আমাদের দেশ সীমিত সম্পদে সমৃদ্ধ। যতক্ষণ আমরা অধিক মুনাফা লাভের আকাক্সক্ষা থেকে বের হতে পারব না, ততক্ষণ টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না। সবারই আয়-রোজগারে লাভের আশা থাকে। তবে কাজ করতে হবে সততার সঙ্গে। আপনারা মোট বাজেটের ৫ থেকে ১০ শতাংশ লাভ অবশ্যই করবেন। সরকার সবার লাভের কথা বিবেচনা করেই বাজেট বরাদ্দ দিয়ে থাকে।’ তিনি বলেন, অসৎ উপায়ে কেউ দীর্ঘদিন জীবনযাপন করতে পারে না। সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে দীর্ঘদিন স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে জীবনযাপন করা সম্ভব।


নদী ও পরিবেশ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, নদী একটি দেশের প্রাণ। সেই নদীতেই যদি নোংরা করা হয়, তাহলে একটি দেশ বাঁচবে কীভাবে? সারাবিশ্বে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করে। অথচ অনেক শহরেই পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদীতে প্রচুর সুয়ারেজ ও ড্রেনেজ লাইন রয়েছে। কিন্তু সেগুলোর ন্যূনতম ব্যবস্থাপনাও নেই।


তিনি আরও বলেন, নগরায়ণ হতে হবে সবুজায়নের মাধ্যমে। সবুজায়ন ছাড়া নগরায়ণ কখনোই টেকসই হবে না। টেকসই আবাসন ও নগরব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।


অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুজ্জামান, দামুড়হুদা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শেখ নুরুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার প্রধান সম্পাদক বিপুল আশরাফসহ গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরে গুড নেইবারস বাংলাদেশের উদ্যোগে শিশু অধিকার বিষয়ক প্রচারাভিযান