বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিএনপির ১০ সুপারিশ

  • আপলোড তারিখঃ ২৯-০৮-২০১৯ ইং
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিএনপির ১০ সুপারিশ
সমীকরণ প্রতিবেদন: রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে না পারার জন্য ক্ষমতাসীন সরকারকে দায়ী করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হলে অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব প্রদান এবং তাদের প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এটাই প্রধান বিষয়। কিন্তু সেটা সরকার পারেনি। সরকারের ব্যর্থতা, অনভিজ্ঞতা ও নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে তারা মিয়ানমারের ট্রাপে (ফাঁদ) পড়ে গেছে। এখান থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রতি ফের জাতীয় ঐক্যের আহবান জানিয়ে ১০ দফা সুপারিশ দিয়েছে বিএনপি। রোহিঙ্গা সমস্যার ওপর গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেক শোর হোটেলে বিএনপির উদ্যোগে ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট ও বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় মির্জা ফখরুল এসব সুপারিশ তুলে ধরেন। বিএনপির ১০ দফা সুপারিশের মধ্যে আছে- জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, নিজের মাতৃভুমিতে অবাধ চলাচল নিশ্চিতকরণ, বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রসমূহকে নিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, প্রত্যাবাসনের আগে ও পরে জাতিসংঘের তত্বাবধানে মিয়ানমারের পরিস্থিতি পরযবেক্ষণের সৃযোগ রাখা, রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে যাতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি না হতে পারে সে ব্যাপারে সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া প্রভৃতি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা জানি, এ সরকারের কোনো নৈতিক অবস্থান নেই, তারা অনির্বাচিত সরকার। সুতরাং তাদেরকে বিশ্বজনমত তৈরি করতে হলে দেশের জনগণকে সামনে নিয়েই এ অভাবটা পূরণ করতে হবে। এই সেমিনারের মধ্য দিয়ে আমরা সরকারের কাছে পৌঁছাতে চাই, জনগণের কাছে পৌঁছাতে চাই, বিশ্বমানবতার কাছে পৌঁছাতে চাই। একইসাথে আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে, জাতিসংঘকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহবান জানাচ্ছি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তারা তাদের ভুমিকা পালন করবে।’ গোলটেবিলে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কানাডা, ফ্রান্স, অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত, পাকিস্তান, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, আফগানিস্তান, তুরস্ক প্রভৃতি দেশের কুটনীতিকরা এবং জাতিসংঘ ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে কূটনীতিরা কোনো বক্তব্য দেননি, তারা আলোচকদের বক্তব্য নোট করেছেন। আলোচনায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে রোহিঙ্গাদের আগমনের প্রেক্ষাপট, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের প্রতিবেদন এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মইন খান, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সচিব এএইচএম মোফাজ্জল করীম, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া বক্তব্য রাখেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যকে আত্মঘাতী মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবার পুরোনো খেলা শুরু করেছেন, বিএনপিকে দায়ী করতে শুরু করেছেন এবং তিনি আমাকে দায়ী করে বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু দিয়ে নাকি আমরা উস্কে দিচ্ছি রোহিঙ্গাদের। এটা আত্মঘাতী, এটা আত্মহননের কথা। আমরা মনে করি, এ ধরনের কথা-বার্তা শুধু রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে, মিয়ানমারকে আরো শক্তিশালী করবে এবং সমস্যা আরো বৃদ্ধি করবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে জীবন-সম্পদ সম্ভ্রমে অখ- নিরাপত্তা ও পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ মাতৃভুমিতে বসবাস করতে পারে সে নিশ্চয়তা বিধান কল্পে বাংলাদেশসহ সংষিøষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলিষ্ঠ কুটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে এর কোনো বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ জাতিকে নিয়েই এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যেতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি এখন বাংলাদেশের জন্য সত্যিকার অর্থে বিপদজনক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম যে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে হলে এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে ওটা করা সম্ভব হবে না। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের করতে হবে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে আসার সময়ে খালেদা জিয়া যে বিবৃতি দিয়েছিলেন তা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের সসম্মানে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাধীনতা, বাড়ি-ঘর-সম্পত্তি ফিরিয়ে দেয়ার নিশ্চয়তার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে শক্তিশালী ভুমিকা রাখতে হবে। এ জন্য দেশে জাতীয় ঐক্যমত্য সৃষ্টি করতে হবে, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে আমাদের আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বন্ধু বৃদ্ধি করে মিয়ারমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। জাতীয় ঐক্য ছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে আমরা মনে করি। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের পরিচালনায় গোল টেবিল আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল মান্নান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত ফজলে আকবর, অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, সুজাউদ্দিন, আবদুল কাইয়ুম, তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিজন কান্তি সরকার, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, শিরিন সুলতানা, আসাদুজ্জামান আসাদ, এবিএম মোশাররফ হোসেন, জহিরউদ্দিন স্বপন, ফাহিমা মুন্নী, রুমিন ফারহানা, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মীর হেলাল, ইশরাক হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরে গুড নেইবারস বাংলাদেশের উদ্যোগে শিশু অধিকার বিষয়ক প্রচারাভিযান