শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত গরুর খামারিরা
- আপলোড তারিখঃ
০৬-০৮-২০১৯
ইং
মেহেরপুরে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে
মেহেরপুর অফিস:
মেহেরপুরে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা। নিজের গরুগুলোকে আকর্ষণীয়, সুস্থ ও মোটাতাজাকরণে দিন-রাত পরিচর্যা করছেন গরুর খামারিরা। এখন পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে গরু না আসায় লাভের মুখ দেখছেন খামারিরা। দেশীয় পদ্ধতিতে ফিজিয়ান, হরিয়ানাসহ বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত হচ্ছে জেলার বিভিন্ন খামারে। পাশাপাশি পারিবারিকভাবেও পালন হচ্ছে দেশি জাতের গরু। দেশীয় খাবার বিচালি, চালের কুড়া, খৈল, কাঁচা ঘাস খাইয়ে গুরু মোটাতাজাকরণ করছেন তাঁরা। গরু মোটাতাজাকরণ করতে কোনো ধরনের ক্ষতিকারক ওষুধ ব্যবহার করছেন না বলে জানিয়েছেন এ জেলার বেশ কয়েকজন খামারি। প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, দেশে প্রচুর পরিমাণ গরু রয়েছে, যা দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব। কোনোভাবেই যাতে সীমান্ত দিয়ে গরু না আসে সেদিকে তৎপর তারা।
মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের খামারি মিলন আলী বলেন, ‘আমার খামারে বিভিন্ন জাতের ৩২টি গরু আছে, যার সব কটি দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে। এবার ঈদে ১৮টি গরু বিক্রি করব। আশা করি দাম ভালো পাব। লাভ হলে খামারটি আরও বড় করব।’ আরেকজন খামারি এনামুল হক বলেন, ‘আমার খামারে কয়েকজন শ্রমিক সারা বছর কাজ করেন। এবার ৬টি বড় জাতের গরু ৩০ লাখ টাকা হলে বিক্রি করব।’ তবে ভারত থেকে গরু এলে ক্ষতির মুখে পড়বেন খামারিরা। সরকারের কাছে গরু চোরাই পথে প্রবেশ বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।
এদিকে ঈদকে ঘিরে ব্যবসায়ীরাও ভিড় জমাচ্ছেন খামারে খামারে। ব্যবসায়ী জহির উদ্দিন জানান, ‘আমরা খামারে খামারে গিয়ে গরু কিনে দেশের বিভিন্ন বড় বড় হাটে নিয়ে বিক্রি করি। এসব গরু রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়া হয়।’ এবার গরুর দাম একটু বেশি হলেও লাভবান হবেন বলে আশা করেন তিনি।
মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলায় এবার ৩৭ হাজার গরু পালিত হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, কোরবানির চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত গরু মজুত আছে দেশে। খামারিদের সুবিধার্থে সীমান্ত দিয়ে গরুর প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছেন তাঁরা। আর সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ করতে না পারলে খামারি এবং ব্যবসায়ী উভয়ে লাভবান হবেন এবং খামারের সংখ্যা বাড়লে দেশের বেকারত্ব অনেকাংশে ঘুচবে। এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
কমেন্ট বক্স