মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহে বিশেষ বরাদ্দের ধান কারা দিচ্ছে?

  • আপলোড তারিখঃ ০১-০৮-২০১৯ ইং
ঝিনাইদহে বিশেষ বরাদ্দের ধান কারা দিচ্ছে?
গুদামে জায়গা নেই, রাখার জন্য বস্তা নেই, কৃষকের ঘরে ধান নেই ঝিনাইদহ অফিস: ঝিনাইদহে বিশেষ বরাদ্দের ধান কৃষকদের কাছ থেকে না কিনে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে কেনার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি উপজেলায় কৃষকদের তালিকা করা হলেও তাঁদের ঘরে ধান না থাকায় কতিপয় দালাল বাজার থেকে কম দামে ধান কিনে ন্যায্যমূল্যে গুদামে বিক্রি করছে। এ সিন্ডিকেটে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, গুদামে জায়গা নেই। ধান কিনে রাখার জন্য বস্তারও সঙ্কট রয়েছে প্রতিটি গুদামে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝিতেও শতকরা ৯০ ভাগ কৃষকের ঘরে খাওয়ার ধান ছাড়া আর কোনো ধান নেই। অথচ বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকের কৃষিকার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তাঁদের নামেই ধান সরবরাহ করা হচ্ছে। সাধুহাটী ইউনিয়নে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান, তাঁর ঘরে ধান ছিল না। কিন্তু তাঁর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে তাঁর কৃষিকার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বৈডাঙ্গার এক ব্যবসায়ী ধান সরবরাহ করেছেন। ওই কৃষককে দেওয়া হয়েছে তিন হাজার টাকা। এভাবে প্রতিটি গ্রামেই কৃষকের নাম তালিকাভুক্ত করে মধ্যস্বত্বভোগীরা গুদামে ধান সরবরাহ করছেন। হরিণাকু-ু উপজেলায় ধানের বরাদ্দ ভাগাভাগী করে নেওয়া হয়েছে। মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ওসিএলএসডিরা যোগসাজশ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে ধান কিনছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে। এ দিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাকিব সাদ সাইফুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, জেলার গুদামগুলোতে ধান রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই, নেই বস্তা। তারপরও বিশেষ বরাদ্দের ধান কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলায় বস্তা দরকার ১ লাখ ১০ হাজার। কিন্তু গতকাল বুধবার পর্যন্ত বস্তার বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ২০ হাজার। বিশেষ বরাদ্দের ধান কেনার টার্গেট পূরণ হবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলায় বিশেষ বরাদ্দের ধান কেনা হচ্ছে ৫ হাজর ৯ শ ৫০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ১ হাজার ৭ শ ৬৩ মেট্রিক টন, শৈলকুপায় ১ হাজার ১ শ ৩৯ মেট্রিক টন, হরিণাকু-ুতে ৭ শ ২৮ মেট্রিক টন, কোটচাঁদপুরে ৪ শ ৬৯ মেট্রিক টন, মহেশপুরে ৯ শ ৩৯ মেট্রিক টন ও কালীগঞ্জ উপজেলায় ৯ শ ১২ মেট্রিক টন। এই ধান কেনা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। বিশেষ বরাদ্দের ধান প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাকিব সাদ সাইফুল ইসলাম জানান, ‘আমরা সাধারণত কৃষকের কৃষিকার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র ও তালিকাগুলো সঠিক আছে কি না, তা দেখি। তারপরও কোনো ব্যত্যয় ঘটলে বা কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরে গুড নেইবারস বাংলাদেশের উদ্যোগে শিশু অধিকার বিষয়ক প্রচারাভিযান