রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাচ্ছেন পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব প্রধান
- আপলোড তারিখঃ
০৯-০৭-২০১৯
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদন:
দেশের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থার তিন প্রধান আজ মঙ্গলবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাচ্ছেন। তিন প্রধান যথাক্রমে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র্যাব) মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) আজ মঙ্গলবার সকালে বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছেই রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাবেন। কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে চলমান সাম্প্রতিক উদ্বেগজনক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের সুশীল সমাজের পাশাপাশি সরকারও উদ্বিগ্ন। এমনকি সীমান্তের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের নানা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো উগ্রবাদ নিয়েও তৎপর বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা শিবিরগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবার ডিপোতে পরিণত হবার মতো উদ্বেগজনক খবরও রয়েছে। জানা গেছে, যেই মুহূর্তে পুলিশ এবং আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রচেষ্টায় টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা পাচার হ্রাস পেয়েছে তখনই মিয়ানমার সীমান্তের ইয়াবা কারখানা সংশ্লিষ্ট মাফিয়া গোষ্ঠী এ কাজে শিবিরের রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করছে। মিয়ানমার সীমান্তের মাফিয়া গোষ্ঠী এবার বাংলাদেশি ইয়াবা কারবারিদের বাদ দিয়ে কারবারে নামিয়েছে শিবিরের রোহিঙ্গাদের।
রোহিঙ্গাদের এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এপারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যাতে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল টাকা-পয়সার মালিক হতে পারে সেই জন্যই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ইন্ধন দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের ইয়াবা কারবারে নামতে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ধারণা, রোহিঙ্গারা অঢেল টাকার মালিক হলে চিরদিনের জন্যই রাখাইনে যাবার কথা আর মুখে আনবে না। টাকা-পয়সার মালিক হয়ে তারা (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশেই জায়গা-জমি কিনে স্থায়ী হবার সুযোগ নিতে চেষ্টা করবে নতুবা অন্য দেশে পাড়ি জমাবে। এসব ছাড়াও রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় যত্রতত্র নতুন করে বসতি স্থাপনেরও একটি প্রচেষ্টা চলে আসছে। বিদেশি সংস্থাগুলোর স্বার্থে রোহিঙ্গা প্রশাসনে জড়িত বাংলাদেশের কতিপয় পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও সরকারের নির্দেশনা না মেনে নতুন করে বসতি স্থাপনের কাজে জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পর্যন্ত এক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের লুন্ডাখালী (হরকত পাহাড়) এবং চৌখালী নামক পাহাড়ে গোপনে কয়েকশত ঘর নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয়রা আন্দোলনে নামেন। এরপর কর্তৃপক্ষ এসব ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।
রোহিঙ্গা শিবিরের এসব বিষয়ের কারণে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। শিবিরের সবগুলো বিষয় সরেজমিন দেখা ও অবহিত হতেই আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থার তিন বাহিনীর প্রধান আজ রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরিদর্শনে আসছেন। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ বি এম মাসুদ হোসেন এ ব্যাপারে জানান, ‘মূলত রোহিঙ্গা শিবির নিয়ে স্থানীয়দের জনজীবনে যাতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় এবং শিবিরগুলোতে যাতে সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের কারণে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে না পারে সেটাই তিন বাহিনী প্রধান দেখবেন।’ পুলিশ সুপার আরো জানান, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর তিন প্রধান আজ মঙ্গলবার পুরোদিন শিবিরগুলো পরিদর্শন করে কক্সবাজারেই রাত যাপন করবেন। তাঁদের সঙ্গে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহীদুল ইসলামও থাকবেন। তারা আগামীকাল বুধবার ঢাকা ফিরে যাবেন বলে কথা রয়েছে। ঢাকায় ফিরে রোহিঙ্গা শিবিরের চতুর্দিকে ঘেরা বেড়া দেওয়াসহ নিরাপত্তা জনিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সুপারিশ করা হবে বলে জানা গেছে।
কমেন্ট বক্স