মহেশপুরে ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি
- আপলোড তারিখঃ
২৭-০৬-২০১৯
ইং
প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:
সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও জনগণের সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় কর্মসূচিতে মহেশপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা খোন্দকার তাজউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ধান ক্রয়ে কোনোভাবেই তাঁর অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। মহেশপুরে ধান ক্রয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অধিদপ্তরে চলছে ব্যাপক অনিয়ম আর দুর্নীতি।
মহেশপুর কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর প্রান্তিক কৃষকদের থেকে ধান ক্রয়ের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। একজন প্রান্তিক কৃষক প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা দরে ১২৫ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ৩ টন ধান সরকারের কাছে বিক্রয় করতে পারবেন। এ জন্য সব প্রান্তিক কৃষক যাতে তাঁদের ধান বিক্রয় করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রতিটি কৃষকের কাছ থেকে ১ টন করে ধান ক্রয় করা হচ্ছে এবং এলাকার মিলারদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করা হচ্ছে। আর এ সব ক্রয় কাজ মহেশপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের কর্মকর্তারা দেখভাল করছেন। অথচ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস জানে না যে উপজেলাতে কত জন কৃষকের তালিকা দেওয়া হয়েছে। আর এ সব ধান ও চাল কাদের কাছ থেকে ক্রয় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসে গেলে দেখা যায়, মহেশপুর পৌর এলাকার ইমতিয়াজ পারভেজ ও তাঁর ভাই মিজানুর রহমানকে দুজনের স্লিপে স্বাক্ষর করতে এবং বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের একই পরিবারে তিন-চারজনের ধান ক্রয়ের স্লিপ বিতরণ করতে। যেখানে কৃষক তাঁর ধান বিক্রয়ের কাগজ নিজে নিয়ে আসার কথা, সেখানে ১০ জনের স্লিপে স্বাক্ষর করাতে ২ জনকে নিয়ে আনা হয়েছে আর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কোনো যাচাই-বাছাই না করেই স্লিপে স্বাক্ষর করে দিলেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা খোন্দকার তাজউদ্দিন আহমেদের কাছে কৃষকের তালিকা ও মিলারদের তালিকা চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা একটা দরখাস্ত দেন, তারপর আমি আপনাদের তথ্য দিব। আর আমাদের কাছে কোনো কৃষকদের তালিকা বা মিলারদের তালিকা নেই। আর আমরা আপনাদের দিতে বাধ্য নই।’
খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার এ আচরণে প্রকাশ পায়, তিনি দুর্নীতির ভেতর দিয়ে হাঁটছেন। প্রান্তিক কৃষক তো দূরের কথা, বিত্তবান ছাড়া সব কৃষকই তালিকার বাইরে রয়েছেন এবং ধান ক্রয়ে দুর্নীতি চরমে উঠেছে।
মহেশপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, ‘আমি এখানে এক মাসও হয়নি যোগদান করেছি। তবে খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার তথ্য গোপন করা মোটেও উচিত হয়নি। তথ্য গোপন করা আইনত অপরাধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অফিসের তথ্য অনুযায়ী মহেশপুর উপজেলাতে মোট ৬৪ হাজারেরও বেশি কৃষক আছে। তাঁদের মধ্যে অনেক কৃষকের তালিকা দেওয়া হয়েছে খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসে। ঠিক কতগুলো কৃষকের তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেটা সঠিক করে বলতে পারব না। তবে নতুন করে সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৫০ জন কৃষকের তালিকা দেওয়া হয়েছে।’
কমেন্ট বক্স