জেলা প্রশাসক যখন ড্রাইভার!
- আপলোড তারিখঃ
২২-০৬-২০১৯
ইং
ঝিনাইদহ অফিস:
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত। ঘড়ির কাটা ১২টা ছাড়িয়েছে। রাস্তায় উৎসুক জনতার ভিড়। সবার জিজ্ঞাসা, কী হচ্ছে। ভিড় ঠেলে ওই রাতে ঘটনাস্থলে যাওয়ার হুড়োহুড়ি। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ রোলারের স্টেয়ারিংয়ে বসা। তাঁকে সাহায্য করছেন ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু। মধ্যরাতে ঝিনাইদহ শহরের পোস্ট অফিস মোড়, সুইট হোটেলের সামনে ও বালিকা বিদ্যালয়ের সড়ক মেরামতের কাজ চলছে। জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রের রাস্তা নির্মাণের এ অভিযান দেখার জন্যই বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মূলত বাড়ি ফেরা শত শত উৎসুক জনতার ভিড়। রাত দুই-তিনটা পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের চলাচলের অযোগ্য ভাঙাচোরা এ রাস্তা মেরামত করে বাড়ি ফেরেন তাঁরা।
মধ্যরাতে উপস্থিত হরিণাকু-ু উপজেলার চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসন জানান, রোলার ড্রাইভার ও হেলপার হিসেবে জনস্বার্থে জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রের এ কাজ ব্যতিক্রমই বটে। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের গুরত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি ছয় মাস ধরে মেরামতের জন্য বলা হচ্ছে। এ নিয়ে সমন্বয় কমিটির চারটি সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু স্বার্থ না থাকায় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ রাস্তা করেননি। জনস্বার্থকে তাঁরা উপেক্ষা করেছেন। বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের অনুরোধে ঝিনাইদহ পৌরসভার মালামাল ও লোকবল দিয়ে রাস্তাটি মেরামত করে চলাচলের যোগ্য করা হয়।
পৌর মেয়র আরও বলেন, রাতের বেলা রাস্তা নির্মাণে পৌরসভার অনেক হতদরিদ্র শ্রমিক স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়েছেন। সওজ-এর রাস্তা জনস্বার্থে পৌরসভা মেরামতের বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের। তিনি জানান, ‘আমরা রাস্তাটি মেরামত করতে ১৪ লাখ টাকার টেন্ডার করেছি। সিএস অনুমোদন হয়ে এসেছে, দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, সরকারি কাজ করতে তো সময় লাগে। এ জন্য সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে দেরি হচ্ছে।
কমেন্ট বক্স