বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

তীব্র গরমে তাল শাসে মিলছে প্রশান্তি

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০৬-২০১৯ ইং
তীব্র গরমে তাল শাসে মিলছে প্রশান্তি
চুয়াডাঙ্গা শহরে ক্রেতাদের চাহিদা মিটাতে তালের পসরা এসএম শাফায়েত: প্রকৃতিতে এখন প্রচ- গরম আর তীব্র রোদ্দুর। এমন আবহাওয়ায় মানুষের ত্রাহি অবস্থা। গরমের এ মৌসুমে স্বস্তি দিতে প্রকৃতি মেলে ধরেছে প্রশান্তির ডালা। বিভিন্ন রসালো, সুমিষ্ট ফলে বাজার এখন ভরপুর। জ্যৈষ্ঠের এই খরতাপে মানুষ সাময়িক প্রশান্তি ও সজীবতার জন্যে নানা সুস্বাদু মৌসুমী ফল কিনছেন। বিক্রেতারাও ফলের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বাজারে বিভিন্ন মৌসুমী ফলের আমদানিও অনেক বেশি। তাই দামটা ক্রেতাদের হাতের নাগালে। তরমুজ, আম, লিচুসহ বিভিন্ন রকমারি ফল শোভা পাচ্ছে বাজারে। এর মধ্যে গ্রীষ্মের আকর্ষণীয় ফল তাল ও তার কচি কচি শাস সব বয়সী মানুষের নজর কাড়ছে। গরমে সবাই এ ফলের জন্যে অপেক্ষা করে থাকেন। গ্রামের মানুষ খুব সহজেই এ ফল পেলেও শহরের মানুষের কাছে অনেক কাক্সিক্ষত। প্রায় সারা বছর কমবেশি পাওয়া গেলেও তীব্র গরমের এ সময়টিতে তাল শাসের চাহিদা অনেক বেশি। এর শাস ও এর ভিতরের সুমিষ্ট পানি মুহূর্তের মধ্যে প্রশান্তি ও সজীবতা এনে দেয় বলেই সবার কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। সহজলভ্য এই তালে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যারোটিন, আমিষ ও প্রটিন। তাল শ্বাস শিশুদের কাছেও আকর্ষনীয় খাবার। সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন স্থানে তাল বিক্রি হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাতের অভাবে এ বছর তালের উৎপাদন কম তবে অন্য ফলের মতো তালের তেমন আধিক্য নেই। শহরের হাতেগোনা কয়েক জায়গায় তাল শাস বিক্রি হলেও তা ক্রেতাদের চাহিদা মিটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের চাহিদা মিটাতে কয়েকজন বিক্রেতা তালের পসরা নিয়ে বসে আছেন। চুয়াডাঙ্গার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে এক সময় প্রচুর পরিমাণ তাল গাছ দেখা গেলেও বর্তমানে তেমন একটা দেখা যায় না। যেসব গাছে তাল হয়, তা গ্রামের বিক্রেতার হাত ধরে পৌঁছাই শহরে। গতকাল শনিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গার শহরের কোর্টমোড়ে দেখা যায়, পাশাপশি দুজন বিক্রেতা তাল বিক্রি করছেন। প্রতিটি তাল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। বিক্রেতারা ধারালো দা দিয়ে কেটে শাস তুলে বিক্রি করছেন। একটি তালে সাধারণত তিনটি শাস থাকে। আর একটি শাস বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে পাঁচ টাকায়। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ পিস তাল বিক্রি হয় বলে একজন তাল ব্যবসায়ী জানান। হাটকালুগঞ্জের অন্য এক তাল বিক্রেতা জানালেন, তাঁরা পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতি পিস তাল ছয় থেকে সাত টাকায় কেনেন। অল্প লাভেই তা বিক্রি করেন। সদর উপজেলার বহালগাছি গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, তাঁদের ১০টি তালগাছ রয়েছে। এ মৌসুমে কাঁচা তাল বিক্রি ভালো টাকা আয়ও হয়েছে তাঁর। তবে তাল পেকে গেলে তা ঘষে বাড়িতে রাখেন তিনি এবং পান্তাভাত ও গরম ভাতের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেয়ে থাকেন। এমন কী তালের তৈরি খাবার দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করেন তিনি। চুয়াডাঙ্গার সোহেল রানা ডালিম বলেন, তার তালের শাস খেতে ভালো লাগে। কম দামে এত সুন্দর রসালো ফলের প্রাপ্তি কার না ভাল লাগে। স্কুলপড়ুয়া ছাত্রী সাথী বলে, সে তালের কচি শাস খেতে ভালবাসে। তালের শাস কিনতে আসা মরিয়ম ও লাকী বেগম নামের দুজন ক্রেতা বলেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য তাল শ্বাস কিনতে এসেছেন তাঁরা। তাল শাসের পুষ্টি গুনাগুণ সম্পর্কে ডা. আওলিয়ার রহমান বলেন, তালের শাস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাসে থাকা জলীয় অংশ পানি শূন্যতা দূর করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ, বিকমপ্লেক্সসহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কচি তালের শাস রক্তশূন্যতা দূর করে। চোখের দৃষ্টি শক্তি ও মুখের রুচি বাড়ায়।


কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় ঢাবিতে চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সাথে এসএমজে