চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন গড়াইটুপি মেটেরি মেলার মোড়ে রাতপাহারা দেওয়ার সময় ডাকাত সন্দেহে একটি মাইক্রোবাস আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় দুজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হালিম নামে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। গত রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গড়াইটুপি মেটেরি মেলার মোড় এলাকায় কিছুদিন ধরে ৭-৮ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা আকতার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মারধর ও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের মৌখিক অনুমতি নিয়ে এলাকায় রাতপাহারা শুরু করেন।
রাতপাহারায় থাকা ব্যক্তিদের দাবি, ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে চলাচল করা ব্যক্তিদের মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাওয়া-আসা করা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে হেডলাইট বন্ধ করে একটি কালো মাইক্রোবাস মেলার মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা গাড়িটির গতিরোধ করার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাইক্রোবাসের চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় কয়েকজনের গায়ে গাড়ির ধাক্কা লাগে। এতে করিমের ছেলে হালিম ও হায়দারের জামাতা আনারুল ইসলাম আহত হন। আহত হালিমকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার অবস্থা গুরুতর দেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি এবং তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে মাইক্রোবাসচালক কামাল হোসেনের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকা থেকে একজন প্রবাসী যাত্রী নিয়ে আসছিলাম। গড়াইটুপি মোড়ে পৌঁছালে কয়েকজন গাড়িতে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। তখন তাদের ডাকাত ভেবে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করি। এসময় কয়েকজনের গায়ে গাড়ির ধাক্কা লাগতে পারে।’
এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ ও মাইক্রোবাসচালকের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় প্রকৃত ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
তিতুদহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অনুপ কুমার বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ বা মামলা হলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এদিকে আহত হালিমের অবস্থা এখনও গুরুতর বলে জানা গেছে।