কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা
- আপলোড তারিখঃ
২৭-০২-২০১৯
ইং
দর্শনা অফিস:
সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী একমাত্র ভারী চিনিশিল্প প্রতিষ্ঠান দর্শনা কেরুজ চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কেরুজ কেন কেরিয়ার প্রাঙ্গণে এ সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। আয়োজন স্থলে শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা বিলম্বে সভাস্থলে বেলা ১২টার দিকে পৌছালে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর দর্শনা কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি তৈয়ব আলীর সভাপতিত্বে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
সভার শুরুতে কেরুজ চিনিকলের জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম নেছার উদ্দিন কোরআন তেলাওয়াত করেন। ইউনিয়নের সহসভাপতি ফারুক আহম্মদের পরিচালনায় ক্যাবিনেটের বিগত দুই বছরের কর্মকান্ডের কার্যবিবরনী তুলে ধরে আলোচনা করেন চিনি শিল্প ফেডারেশনের আইন ও দরকষাকষি সম্পাদক ও দর্শনা কেরুজ চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ।
আলোচনায় সভাপতি তৈয়ব আলী ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ বক্তব্যে শ্রমিক-কর্মচারীদের উদ্দ্যেশে বলেন, দেশী-বিদেশী বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্র, মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে চিনি শিল্প যখন ধ্বংশের দ্বার প্রান্তে, অডিট আপত্তি যাতাকলে পিষ্ট হয়ে শ্রমিক শ্রেণি দিশেহারা। একদিকে দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধগতি, অন্যদিকে প্রতিক্ষিত মজুরী কমিশন ঘোষিত না হওয়ায় শ্রমিক সমাজের প্রাণ যখন ওষ্টাগত, তেমনি সময়ে ২০১৭ সালে নির্বাচনে আপনাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে আমাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে যে গুরু দায়িত্ব দিয়েছিলেন তা পালন করতে আপ্রাণ চেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় মজুরী কমিশন ঘোষণার দাবিতে ৫টি ফেডারেশনের আওতাধীন ৮০টির বেশী বেসিক ইউনিয়নের মাধ্যমে সেক্টর করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সমন্বয় পরিষদ গঠন করে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে মজুরী কমিশন বাস্তবায়নে সক্ষম হয়।
এছাড়া বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদ জাতীয় মজুরী ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ প্রায় দ্বিগুণ হারে, বেতন কমিশনের ন্যায় মজুরী কমিশন বাস্তবায়নে বেতন বৈষম্য অনেকাংশে দূরীকরণসহ মজুরী কমিশনভুক্ত শ্রমিকদের বাৎসরিক বেতন ৫% হারে নির্ধারিত হওয়ায় শ্রমিকগণ আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। জাতীয় মজুরী কমিশন-২০১৫ অনুযায়ী মজুরী নির্ধারণী ফরমে জাতীয় পরিচয় পত্র সংযুক্তি বাধ্যতামূলক ব্যতি রেখে স্বল্প সময়ে দ্রুততার সাথে মজুরী নির্ধারণী সীট সদর দপ্তর হতে অনুমোদন পূর্বক বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
জাতীয় মজুরী স্কেল ২০১৫ মজুরী নির্ধারণী সীট সদর দপ্তর হতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুমোদন পূর্বক স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন মজুর স্কেল বেতন, ওভারটাইম ভাতা ও রিটেনশন ভাতা প্রদান ছাড়াও পুরাতন স্কেলে লভ্যাংশ বোনাজের ভাতা প্রদান, কিছু সংখ্যক শ্রমিকদের চুক্তিভিত্তিক চাকরিকালে অভিজ্ঞতা হিসেবে গন্য করে তাদেরকে নতুন স্কেলে মজুরী প্রদান করা, মৌসুমী শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ছুটি নগদীকরণের ক্ষেত্রে অডিট আপত্তি নিস্পত্তি করা ও স্থায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে অডিট আপত্তির কাজ প্রক্রিয়াধিন আছে। এছাড়াও তিনারা শ্রমিকদের পদোন্নতি করাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তুলে বক্তব্য রাখেন এবং আগামীতে ক্ষতায় আসলে সুবিধা বঞ্চিতদের সুযোগ করে দেওয়াসহ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভুমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন কেরুজ সূর্যসেনা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সহসভাপতি ফারুক আহম্মেদ, সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম, সহসাধারণ সম্পাদক খবির উদ্দিন বিশ্বাস, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, পদপ্রার্থী মামুন খান, ইকরামুল হক, ইক্ষু বিভাগের সদস্য সাইফুদ্দিন সুমন, উৎপাদন বিভাগের শ্রী গোবিন্দ কুমার হালদার, পরিবহন বিভাগের ইয়াসির আরাফাত, সুগার উৎপাদনের হাফিজুর রহমান, এএসএম কবির, বাবুল আক্তার, সালাউদ্দিন সনেট, শ্রমিক-কর্মচারী ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওমর আলী প্রমুখ।
সভা চলাকালীন সময় ওয়ার্কসপ শ্রমিক বদিয়ার রহমান সংগঠন বিরোধী বক্তব্য রাখায় শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সভাস্থলে হট্টগোল সৃষ্টি হলে চেয়ার ছোড়াছুড়িসহ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ প্রশাসনের লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে পরিবর্তীতে সভারকার্য পরিচালিত হয়। এরপর সভা চলাকালীন সময় সভাপতির প্রস্তাবনা পালায় বিরোধী পক্ষের নেতারা সকল প্রস্তাব মেনে নিলেও নির্বাচনের স্থান নিয়ে বাধে বিরোধ। এ বিরোধের জেরে উপস্থিত শ্রমিক কর্মচারীদের এক তৃতীয় অংশ রায়ে পূর্বের স্থান নির্ধারণ হওয়ায় বিরোধীপক্ষ সভা স্থল ত্যাগ করে। পরে বিরোধী পক্ষের লোকজন ক্লাব মাঠ প্রাঙ্গণে এসে স্বল্প সময়ের জন্য সভা পরিচালনা করে।
কমেন্ট বক্স