কে এই সান?
- আপলোড তারিখঃ
১৬-০৫-২০১৮
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাধারণ নয়! চিহ্নিত এবং দুধর্ষ পরিবারে বেড়ে ওঠা সাকিব হাসান ওরফে সান (২৫) ছোট থেকেই ডানপিঠে তবে মিষ্টভাষী। তার দাদা কোমেদ মন্ডল ওরফে কোমে ডাকাত। তিনি ষাটের দশকের একজন চিহ্নিত ও আলোচিত ডাকাত সর্দার। তার পিতা হেলাল উদ্দীন পেশায় পরিবহণ শ্রমিক। এর আড়ালে মাদক বিক্রির সাথেও সম্পৃক্ততা আছে তার। এই পরিবারেরই বড় ছেলে সে। তার ছোট ভাই মুন চুয়াডাঙ্গা নিচের বাজারে একটি মুদিখানার দোকানে কাজ করে। পরিবারের অবস্থা ভালো না হওয়ায় ছোট বেলায় স্কুলে যাওয়া হয়নি দুই ভাইয়ের। পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কিশোর সানকে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজে লাগানো হয়। দুরন্তপনা আর প্রবল আগ্রহের ফলে খুব অল্প সময়ে দক্ষ মোটরসাইকেল মিস্ত্রি হয়ে ওঠে সে। ওই সময় থেকেই যে কোন ধরণের মোটরসাইকেল চালনায় পারদর্শী ছিল সান। দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালানো তার বিশেষ অভিজ্ঞতা। ওই গ্যারেজের মিস্ত্রির (ওস্তাদ) মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা আলুকদিয়া চকপাড়ার শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদুলের সাথে পরিচয় হয় সানের। তার কাছ থেকেই মোটরসাইকেল চুরি ও কলা কৌশল শেখে সে। দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর বিশেষ অভিজ্ঞতা ও মোটরসাইকেলের খুটিনাটি রপ্ত করতে পারায় সে আন্তঃ জেলা মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের মধ্যে ব্যাপক আলোচিত হয়ে ওঠে। ২০১৪ সালের দিকে শহিদুল আততায়ীদের হাতে নিহত হলে আরো দুধর্ষ হয়ে ওঠে সান। সে সময় থেকে কয়েকজন সহযোগিকে নিয়ে একছত্র সিন্ডিকেটও গড়ে তোলে বলে জানা যায়। সান বেশির ভাগ সময় আত্মগোপণে থাকত। প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যেত না তাকে। এর আড়ালে মোটরসাইকেল চুরি, ছিনতাই, মোটরসাইকেল চুরির পর তা খন্ড খন্ড করে বিক্রি করাই তার প্রধান কাজ ছিল। পাশাপাশি সে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল বলে জানা যায়।
সান দীর্ঘদিন ধরে পরিবার বিচ্ছিন্ন। মা-বাবার থেকে আলাদা থাকত সে। সর্বশেষ বাগানপাড়ার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও তার ছেলে মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকত। সে এক বছরের ব্যবধানে দু’টি বিয়ে করে। বর্তমানে একটি স্ত্রী রয়েছে। কিছুদিন আগে একটি মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পায়। এরপর থেকে পুলিশ বেশ কিছুদিন ধরে তাকে খুজছিল।
কমেন্ট বক্স