গাংনীতে কয়েক’শ বিঘা জমির ধান পানির তলে : চিন্তিত কৃষক
- আপলোড তারিখঃ
১০-০৫-২০১৮
ইং
গাংনী অফিস: গাংনী উপজেলার মাদিয়ার বিল এলাকার কৃষকদের কয়েকশ’ বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। আর পানির তলে যাওয়ার মূল কারণ মাদিয়ার বিলের বাধ। সেই বাধ অপসারণের দাবিতে উপজেলা নিবাহী অফিসারের দ্বারস্ত হয়েছেন কয়েকশ কৃষক। গেল বছরের মাছ চাষীরা বাঁধ কাটার ফাঁদে ফেলে চাষীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। মাছ চাষীদের ষড়যন্ত্রে বিপাকে এলাকার অনেক কৃষক।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত বছর মাদিয়ার বিল পুনর্খনন হলে সেখানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ শুরু করে চিৎলা গ্রামের জনৈক আব্দুল মতিন ও মহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন। মাদিয়ার বিল থেকে ছেউটিয়া নদীতে পানি নিষ্কাসনের পথে বাঁধ দেয় ওই বিলের ধান নিয়ে বিপাকে পড়েন চাষীরা। গাংনী, বাঁশবাড়ীয়া, ধানখোলা, নিত্যান্দপুর ও পাকুড়িয়াসহ আশের গ্রামের চাষীদের কয়েক হাজার বিঘা আবাদি জমি রয়েছে মাদিয়ার বিলে। ধান পানিতে ডুবে গেলে চাষীদের সাথে মাছ চাষীদের কয়েক দফা গ-গোলও হয়। কিন্তু বাঁধ কাটা হয়নি। নিত্যানন্দপুর চার্চ সেক্রেটারী কাজল মন্ডল জানান, গত বছর দেয়া মাছ এবার চৈত্র মাস পর্যন্ত ধরা সম্পন্ন হয়েছে। মহিদুল ও মতিন বিল ছেকে সব মাছ ধরে নিয়েছেন। গত মাসের শেষের দিকে ভারি বর্ষণ হলে বিলের কয়েকশ’ বিঘা জমির বোরো ধান পানিতে ডুবে যায়। বিষয়টি তাদের জানালে বাঁধের মুখ কেটে দেয়। নিজেরা বাঁধে কেটে দিলেও নিত্যানন্দপুর গ্রামের সাত জনের নামে গাংনী থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে। আসামিদের এখন পুলিশ খুঁজে বেড়াচ্ছে। এতে চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা।
ইউএনও অফিসে উপস্থিত চাষীরা আরো জানান, বিলের পানি নিষ্কাসন ও শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখার জন্য সরকারীভাবে একটি সুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে মহিদুল ও মতিন। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সুইস গেটের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। গ্রামবাসী মতিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, মতিন এলাকার একজন চিহ্নিত ব্যক্তি। নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। মাছ চাষের নামে মাদিয়ার বিলে সে মাদকের আখড়া বসিয়েছে। বিভিন্ন এলাকার মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে নিবিঘেœ তার কারবার চালিয়ে আসছে। মতিন ও মহিদুলের মিথ্যা মামলার আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে উল্লেখ করে গ্রামের কয়েকজন আরো জানান, মাঠে ধান কাটতে গেলে তারা গালিগালাজ করছে। মামলা হামলার ভয়ে অনেকেই পাকা ধান কাটতে মাঠে যেতে পারছেন না। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণপদ পাল গ্রামবাসীর অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সহকার কমিশনাকে (ভূমি) দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। প্রতিবেদন হাতে পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কমেন্ট বক্স