মদনায় শিক্ষক কর্তৃক স্কুলছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব ভাইরাল হওয়ার ঘটনা
দর্শনা অফিস: ফেসবুকে শিক্ষক কর্তৃক ৯ম শ্রেনীর ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব ভাইরাল হওয়া ঘটনায় অভিযুক্ত মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইনামুলের চাকরীচ্যুত করে কঠোর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রধান শিক্ষক বরাবর ছাত্রীদের অভিভাবকরা গণপিটিশন দায়ের করেছে। মানববন্ধনে যতক্ষন পর্যন্ত লম্পট শিক্ষক ইনামুলের চাকরীচ্যুত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা না করা হবে ততক্ষন তাদের সন্তানদের স্কুলে যেতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন অভিভাবক মহল। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা অংশগ্রহন করে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ইনামুলের বিরুদ্ধে এ ধরনের মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। এখন এর উপযুক্ত প্রমান মিলেছে সুতরাং আমরা এ ধরনের শিক্ষকের কাছে পড়তে চাইনা। তাছাড়া আমাদের বিদ্যালয়ে এ ধরনের শিক্ষক না থাকলে কোন সমস্যা হবে না বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। একইসাথে অভিভাবকমহল জানায়, আমরা আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে স্কুলে পাঠায়। যাতে তারা মানুষের মত মানুষ হয়। তাছাড়া আমাদের সন্তানরা বাড়ি থেকে যখন স্কুলে ও প্রাইভেটে যায় তখন আমরা ভাবি আমাদের সন্তানরা সুরক্ষিত আছে। কিন্তু এ ধরনের লম্পট শিক্ষকের কাছে আমাদের সন্তানের স্কুলে অথবা প্রাইভেটে দেওয়া নিরাপদ মনে করছিনা। তাই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিদ্যালয় থেকে চাকরীচ্যুত করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। গ্রামবাসীরা আরো জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক ইনামুল গ্রামের মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে বিভিন্ন উপায়ে ম্যানেজ করে তার পক্ষে কথা বলার জন্য কৌশল অবলম্বন করছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বেশ কয়েকদিন আগে আমি লোকমুখে শুনেছিলাম তবে কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি। আজ লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় চলে এসেছে। তাই স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাইরে থাকায় আমাদের একার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এএসএম জাকারিয়া আলমের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানায়, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি প্রধান শিক্ষক আগামী মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সকল সদস্যকে অবগত করতে বলেছি। এ বিষয়ে ওই দিনই আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। উল্লেখ্য, গত পাঁচদিন আগে মদনায় ফেসবুকে শিক্ষক ইনামুল বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক ইনামুলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে তার শাস্তির দাবি জানায় অভিভাবক ও গ্রামবাসী।