মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা আজ
- আপলোড তারিখঃ
১১-০৪-২০১৮
ইং
চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট হাসপাতালে ১৯ রোগীর চোখ নষ্টের ঘটনায়
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অসহায় ও হতদরিদ্র ১৯ রোগীর চোখ তুলে ফেলার ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির সসদস্যরা আজ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। গত ৫ ও ৬ এপ্রিল এই তদন্ত কমিটি চুয়াডাঙ্গায় তদন্ত কাজ করে। এই তদন্ত দলের সাথে ছিলেন পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনা্ষ্িটটিউট ও হাসপালের চক্ষু বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল্লাহ, ঢাকা মেডেকেল কলেজের মাইক্রো বায়োলোজিক্যাল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদবিন শহীদ, ঢাকা মহাখালি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (হাসপাতাল-২) এর উপ-পরিচলক ডা. শরিফুল। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা সিভিল কার্যালয়ের গঠিত তিন সদস্যের তদন্তকারী দল ও বিএমডিসির দুই সদস্যের তদন্তকারী কমিটিও পৃথক পৃথকভাবে তাদের স্ব সস্ব প্রতিষ্ঠানে তদন্ত প্রতিবেন জমা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গা ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল হাসপাতালে ২০ নারী পুরুষ চোখের ছানী ষপারেশন করেন। আর ছানি অপারেশন করেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে ঢাকায় নিয়োগকৃত চক্ষু বিশেসজ্ঞ এবং সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন। এদিকে অপারেশনের দুদিনের মাথায় অপরেশনকৃত ২০ রোগীর মধ্যে অসহায় ও হতদরিদ্র ১৯ রোগীর চোখে পচন শুরু হয় এতে রোগীরা চোখের অসহ্য যন্ত্রনা নিশে ছুটে আসে ইম্প্যাক্টহাসপাতালে।
হাসপাতাল কর্তৃকপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গত ৯ মার্চ ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের দ্রুত ম্যানেজ করে ও ভুক্তভোগীরা যাতে আইনের আশ্রয় নিতে না পারে সে ব্যপারে রোগীদেরকে সার্বিক সহযোগীতার কথা ও উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা দিতে থাকে। চিকিৎসা দিয়েও যখন চোখের পচন রোধ করা সম্ভব না হয় তখন নিরুপাই হয়ে রোগীদের ম্যানেজ করে গত ২০ এপ্রিল ১৯ রোগীকে মৃত্যুঝুকি থেকে বাঁচাতে তাদের পচে যাওয়া চোখ তুলে ফেলা হয়। এ বিষয়ে ইম্প্যাক্ট কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগীদেরকে টাকা ও তাদের সার্বিক দেখভালের প্রলোভন দেখানোতে তারা আইনের আশ্রয় বা সাংবাদিকদের সাথে খোলামেলা বা সমস্যার কথা বলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না এমন মানষিকতা প্রকাশ পেয়েছে রোগীদের ভাষ্যে। সর্বশেষ অনসন্ধানে জানা গেছে, ইম্প্যাক্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মিমাংশা করতে রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের কাছে থেকে নেওয়া টাকা ফেরৎ দেওয়ার চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ রোগীদের। তবে, অনেক রোগীই তাদের অঙ্গহানীর কারণে ইম্প্যাক্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবী করছে। তবে, ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এই হাসপাতালের পরিচালক ডা. হাসিব জানান, যেহেতু এবিষয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে এখন যেকোন বিষয় আদালতের মাধ্যমেই নিস্পত্তি হবে।
কমেন্ট বক্স