বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গা-ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধাদের বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি

  • আপলোড তারিখঃ ১১-০৪-২০১৮ ইং
আলমডাঙ্গা-ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধাদের বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি
মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা আন্দোলনের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা অফিস/ঝিনাইদহ অফিস: মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও ঝিনাইদহের মুক্তিযোদ্ধারা। আমাদের আলমডাঙ্গা অফিস জানেিয়ছে, আলমডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে চলমান স্বাধীনতা বিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে উপজেলার প্রায় তিনশ জন মুক্তিযোদ্ধা ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শফিউর রহমান জোয়ার্দ্দার সুলতান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সাহাবুদ্দিন সাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নুর মোহাম্মদ জকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দ. সেলিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওহিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আইনুদ্দিন প্রমুখ। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নানের নিকট পেশ করেন। উপজেলার প্রায় ৩শত জন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করছি উচ্ছৃখল ছাত্রছাত্রী মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। আমরা অবাক হই, এরা বাংলাদেশী হয়ে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ সুবিধার বিপক্ষে কথা বলে। স্বাধীনতা পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ছাড়া দীর্ঘদিন আমরা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আমাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেয়া ছিল জীবনের জন্য ঝুকিপূর্ণ এবং আশ্চর্যজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করেছি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশের ক্ষমতা সর্বস্তরে বিচরণ করেছে। আমারা অবহেলিত এবং বঞ্চিত হয়েছি ও দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া বঞ্চিত জনগোষ্ঠির অর্ন্তভুক্ত হয়েছি। বর্তমান সরকারের সময়ে আমরা সুযোগ সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছি। এছাড়া কোটা ব্যবস্থা আইন করে প্রবর্তন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী সরকারী চাকুরির ক্ষেত্রে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। কোটা ব্যবস্থা তুলে দেয়া হলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কোন প্রতিনিধি সরকারী চাকুরীতে থাকবে না এবং সরকারী চাকুরী বড় শহর কেন্দ্রীক হয়ে পড়বে। যার ফলে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি রাষ্ট্রীয় সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়বে এবং স্বাধীনতা বিরোধী প্রচারণা শুরু হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি সমূহ ১। মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে, ২। শতভাগ কোটা ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যেনো সর্বস্তরের জনগোষ্ঠি প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, ৩। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং বংশধরদের চাকুরী নিশ্চিত করতে হবে, ৪। স্বাধীনতা বিরোধী সকল শক্তিকে উৎখাত করতে হবে, ৫। মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের আইন তৈরি করে বিচারের আওতায় আনতে হবে, ৬। সকল ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়াকে এ ধরণের সংবাদ পরিবেশনা এড়িয়ে চলতে হবে, প্রয়োজনে আইন প্রনয়ন করতে হবে, ৭। এ ধরণের আন্দোলনের ক্ষেত্রে সোস্যাল মিডিয়াসমূহ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ঝিনাইদহ অফিস জানিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঝিনাইদহের মুক্তিযোদ্ধারা। মঙ্গলবার সকালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেয়। পরে তাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পেশ করেন। এসময় সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মকবুল হোসেন, ডেপুটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দলিল উদ্দিন, সদর উপজেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার সিদ্দিক হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা কোঠা বাতিল করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি প্রদাণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। এদিকে জেলার শৈলকুপা উপজেলায়ও মুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভ শিষে তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের রাজাকারের সন্তান বলে আখ্যায়িত করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা রইচ উদ্দীন ও সাবেক জেলা কমান্ডার মনোয়ার হোসেন মালিথা। তারা বলেন দেশে বিদ্যমান সব কোটা রাখতে হবে। না হলেও তারাও আন্দোলন করে দেশ অচল করে দিবেন। মাবেশ শেষে তারা ইউএনওর কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ