সম্পত্তির কারণে পিতার লাশ দাফনে বাধা!
- আপলোড তারিখঃ
১১-০৪-২০১৮
ইং
দত্তনগর প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ মহেশপুরে সম্পত্তি দাবিতে পিতার লাশ দাফনে বাধা প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। মৃত ওই ব্যক্তির কন্যারা এই বাধা প্রদান করে সমালোচনায় পড়ে। ঘটনাটি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়ের গুড়দহ গ্রামে ঘটেছে।
গতকাল গুড়দহ গ্রামের আব্দুর সাত্তার (৮৫) নামের এক ব্যক্তি মারা গেলে তার সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে তিন স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বঞ্চিত সন্তানেরা লাশ দাফনে বাধা প্রদান করে। পরে অবশ্য স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ হক, স্থানীয় মাতব্বর আব্দুল ওয়াহেদ বিশ্বাস, আমিনুজ্জামান ও দত্তনগর ক্যাম্প ইনচার্জ রবিউল ইসলাম লাশ দাফনের বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে মরহুমের লাশের দাফনকার্য সম্পন্ন করে।
ইউপি চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ হক জানান, মৃত ব্যক্তির তিন স্ত্রীর মধ্যে বড় সহিতন (৬৫) ও মেজো মর্জিনা খাতুন (৪৫) তালাকপ্রাপ্তা। বর্তমানে ছোট স্ত্রী রোজিনা খাতুন (৩৫) দুই সন্তান নিয়ে মরহুমের সংসারে বিদ্যমান।
৫০ বছর পূর্বে শ্যামকুড় গ্রামের আজিজুল হকের কন্যা সহিতন নেছা (৬৫) সামাজিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সহিতন নেছার সংসারে ফরিদা (৪৫), খালেদা (৪০) ও রাশিয়া (৩৬) নামের তিনটি কন্যা সন্তান রেখে সহিতনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় মৃত ছাত্তার মন্ডলের। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রী মর্জিনা (৪৫) এর সহিত বিবাহ হয়। মর্জিনার ঘরে তহমিনা (১৮) নামের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। দ্বিতীয় স্ত্রী মর্জিনাকেও তালাক দেয়। এরপর তৃতীয় স্ত্রী রোজিনা খাতুনের সংসারে এক পুত্র আবুল বাশার (১১) ও এক কন্যা সাদিয়া ইসলাম ছবিকে রেখে মারা যায় ছাত্তার। মারা যাওয়ার আগে তার ভূ-সম্পত্তি কিয়াদংশ তৃতীয় স্ত্রীর সন্তানদের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেয় বলে শোনা যায়। বঞ্চিত ওই চার কন্যা তাদের সম্পদের সঠিক বন্টনের দাবিতে পিতার লাশ দাফনে বাধা সৃষ্টি করে। পরে স্থীনীয় ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে লাশ দাফন হয়। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
কমেন্ট বক্স