বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ : প্রতিরোধে আন্দোলনের প্রস্তুতি

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-০৩-২০১৮ ইং
সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ : প্রতিরোধে আন্দোলনের প্রস্তুতি
লোহার খাঁচায় বন্দী হচ্ছে দর্শনার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার দর্শনা অফিস: শহীদ মিনার জাতির শক্তি ও প্রেরণার উৎস। শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে জাতি সকল সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলে, সাহস সঞ্চার করে, শপথ গ্রহন করে। শহীদ মিনারের বেদীমূল মুক্ত। সেই শহীদ মিনারের বেদীমূলে এবার শিকল পরানো হচ্ছে, লোহার খাঁচায় বন্দী করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটছে চুয়াডাঙ্গার সাংস্কৃতিক শহর দর্শনায়। এই ঘটনায় প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চলছে আন্দোলনের প্রস্তুতি। জানা যায়, বহুদিনের প্রত্যাশার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের অর্থায়নে দর্শনা সরকারী কলেজ চত্বরে ‘দর্শনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার’ নির্মিত হয় এবং ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এটি উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর। ইতোমধ্যে শহীদ মিনারকে ঘিরে সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞে অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি নিরাপত্তার অজুহাতে শহীদ মিনারটি ঘিরে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চলছে নির্মাণ কর্মযজ্ঞ। শহীদ মিনারের সামনে ১০ ফুট পরপর ৫টি আরসিসি পিলার তৈরীর প্রস্তুতি সম্পর্ণ করেছে, যা লোহার গ্রীল এর বেষ্টনী পিলার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। একই সাথে শহীদ মিনারের সিঁড়ি হয়ে দেবীর ৩ পাশে এসএস পাইপ ও শিকল দ্বারা ঘিরে ফেলা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এর আদলে নির্মিত শহীদ মিনারটি হারাবে তার আপন সৌন্দর্য্য। অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে শহীদ মিনার। বেদীমূলের সমস্ত অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্থ করবে সাধারণ জনতাকে। এ প্রসঙ্গে দর্শনাস্থ অনির্বাণ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এর নির্বাহী সদস্য নাট্যজন আনোয়ার হোসেন বলেন- ‘ভাষা স্মারক শহীদ মিনার এখন বিশ্ব সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পৃথিবীব্যাপি যখন বাংলা ভাষার গৌরবগাঁথা উচ্চারিত হচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশে একুশের প্রভাত ফেরীতে পাদুকা ঢুকে পড়েছে, শহীদ মিনারগুলি ধীরে ধীরে বন্দী হয়ে পড়ছে। ভাষা সংস্কৃতি যখন অবারিত, তখন কেন ভাষা স্মারক শহীদ মিনার এর পাদদেশ সংকোচিত? শহীদ মিনারে মানুষ বাঁধাহীন ভাবে আসবে, শ্রদ্ধা জানাবে, শপথ নেবে, বিভিন্ন অনুষ্ঠান করবে। আমরা আমাদের প্রাণের শহীদ মিনারকে এমন বন্দীদশায় দেখতে চাইনা’। বিষয়টি তরিৎ সমাধান না হলে দর্শনা শহর গণআন্দোলনে রুপ নিতে পারে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করছে সাধারণ জনতা। দর্শনা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ বলেছেন, বিছিন্নভাবে না বলে সবাইকে এক জায়গায় বসতে হবে। যাতে প্রটেকশন হয় আবার শোভা বর্ধন হয়। এসব বিষয়গুলো দেখে কাজ করতে হবে। আমি আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি।


কমেন্ট বক্স
notebook

সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ