বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মেহেরপুরের ভাষা সৈনিকদের মূল্যায়ণ হয়নি আজও

  • আপলোড তারিখঃ ২২-০২-২০১৮ ইং
মেহেরপুরের ভাষা সৈনিকদের মূল্যায়ণ হয়নি আজও
মেহের আমজাদ: ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে মেহেরপুরের মত মফস্বল শহরে যারা মায়ের ভাষাকে আঁকড়ে ধরে গর্জে উঠে আন্দোলন করেছিল তাদের আজও মূল্যায়ণ হয়নি। এমনকি জেলা প্রশাসন কিংবা কোন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। মেহেরপুরে ১৯৫২ সালে মহান ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী ভাষা সৈনিকদের কোন পুর্ণাঙ্গ তালিকা কোথাও সংরক্ষিত নেই। তবে সাংবাদিক সৈয়দ আমিনুল ইসলাম রচিত মেহেরপুরের ইতিহাস গ্রন্থে এবং মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহনকারীর মধ্যে এখনো যাঁরা জীবিত আছেন তাদের দেওয়া তথ্য মতে, মেহেরপুরে মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহনকারীর সংখ্যা ১৬ জন। তারা হলেন, মুন্সি সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক প্রধান শিক্ষক কবি কাজী নজরুল শিক্ষা মঞ্জিল, মেহেরপর। গোলাম কাওসার (চানা) ওরফে কাওসার আলী চানা, সাবেক পৌর কর্মচারী, মেহেরপুর। জান মোহাম্মদ, সাবেক সহকারী শিক্ষক সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয়, মেহেরপুর। আবুল হোসেন, থানা রোড মেহেরপুর। সুলতান উদ্দিন সেখ, কালাচাঁদপুর, মেহেরপুর। ইছাহক বিশ্বাস, খন্দকার পাড়া, মেহেরপুর। সিরাজুল ইসলাম, বাওট, গাংনী, মেহেরপুর। গোলাম গাউস খান, বাসষ্ট্যান্ডপাড়া, মেহেরপুর। আওলাদ হোসেন, শালিকা, মেহেরপুর। মীর মোজাম্মেল, মীরপাড়া, আমঝুপি, মেহেরপুর। রফেজ উদ্দিন মল্লিক রতন, পিরোজপুর, মেহেরপুর। শান্তিনারায়ণ চক্রবর্তী, কাশ্যবপাড়া, মেহেরপুর। বংকু ঘোষ ওরফে সতীনাথ ঘোষ, কালীবাজার, মেহেরপুর। ইউনুচ আলী, কোমরপুর, মেহেরপুর। সাদেক আলী, কাঁশারীপাড়া, মেহেরপুর ও দেওয়ান ইয়ারুল ইসলাম, গড়পাড়া,মেহেরপুর। উল্লেখিত ১৬ জনের মধ্যে এখনো জীবিত রয়েছেন ৩ জন। প্রচার বিমূখ এই মানুষগুলোকে সেইভাবে মূল্যায়ণ করা হয়নি আজও। জীবিতদের মধ্যে (১) ভাষা সৈনিক গোলাম কাওছার (চানা): জন্ম ১৯৩০ সালে। মেহেরপুর পৌরসভার ১-নং ওয়ার্ড। ১৯৫২ সালে মেহেরপুর রিটল মডেল ইংরেজী হাইস্কুলের ৯ম শ্রেনীর ছাত্র থাকাকালীন সক্রিয়ভাবে ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি মেহেরপুরে গঠিত ভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২৩ ফ্রেব্রুয়ারী বন্ধুদের সাথে আলোচনা শেষে ২৪ ফ্রেব্রুয়ারী মেহেরপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তিনি মেহেরপুর পৌরসভার (অবঃ) ট্যাক্স কালেকটর ছিলেন। (২) ভাষা সৈনিক সিরাজূল ইসলাম: জন্ম ১৯৩৪ সালে, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় অংশ গ্রহনকারী। মেহেরপুর রিটল মডেল ইংরেজী হাইস্কুলের ৯ম শ্রেনীর ছাত্র থাকাকালীন তিনি মহান ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বাংলাদেশ জীবন বীমা করর্পোরেশন ঢাকা অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। (৩) ভাষা সৈনিক সূলতান সেখ: জন্ম বাংলা ১৩২৫ সালে। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে একজন সক্রিয় অংশগ্রহনকারী। মেহেরপুর রিটল মডেল ইংরেজী হাইস্কুলে ১০ম শ্রেণীতে পড়ার সময় মহানভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫২ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারী যে অকুতোভয় যুবকরা মেহেরপুর শহরে বাংলা ভাষার দাবী আদায়ের আন্দোলনে অংশগ্রহন করে সুলতান শেখ তাদের অন্যতম। তিনি বঙ্গবন্ধুর একজন লড়াকু সৈনিক হিসাবে পরিচিত। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর নির্মম বুটের আঘাতে শ্রবণ শক্তি হারিয়ে এখন কালের স্বাক্ষী এই মানুষটি। তিনি দীর্ঘদিন মেহেরপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে জনসেবা করেছেন। বর্তমানে বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে এই সব ভাষা সৈনিকেরা মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

১২ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ