কোনো দল নির্বাচনে না এলে কিছুই করার নেই
- আপলোড তারিখঃ
২০-০২-২০১৮
ইং
গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ডেস্ক রিপোর্ট: কোনো দল নির্বাচনে না এলে কিছুই করার নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধানে যেভাবে আছে সে অনুযায়ী সময়মতো নির্বাচন হবে। ১৪ সালে নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি এবারও আর কেউ পারবে না। আমাদের প্রতি জনগণের আস্থা আছে। ইতালি ও ভ্যাটিকান সফর শেষে গতকাল সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম বেগম খালেদা জিয়ার সাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালত তার শাস্তি দিয়েছে, সেখানে আমাদের কিছুই করার নেই। কোরআন শরীফে আছে এতিমের টাকা খাওয়া যাবে না। যার শাস্তি আল্লাহ দিবেন, এখনও শাস্তি হয়েছে। আর শাস্তি কি আমি দিয়েছি যে তুলে নেব, সেটা সম্ভব নয়। শাস্তি দিয়েছে আদালত। এখন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কি না সেটা আদালতই সিদ্ধান্ত দিবে। এসময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে অনেক ফোন বা চাপ থাকলেও খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে দেশ-বিদেশে কোনো প্রশ্ন করা হচ্ছে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেকেইে কথা বলে। কিন্তু ক্ষেত্রে বিশেষ দুর্নীতি করলে তা নিয়ে তেমন কথা হয় না। কোর্ট রায় দিয়েছে আর সেটার দায়ও পড়ছে সরকারের ওপর। সেখানে আমাদের কিছুই করার নেই।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির একটি গঠনতন্ত্র আছে কিন্তু তার কোনো খোঁজও করা হয় না। তাদের গঠনতন্ত্রের সাথে লোকবলের কোনো মিল নেই। ওটার ধার ধারে না। যাকে যতগুলো পারে দিয়েই যাচ্ছে। গঠনতন্ত্রে সব ক্ষমতা চেয়ারপারসনের। আমাদের (আওয়ামী লীগের) গঠনতন্ত্রে কিন্তু তা নেই। এখানে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলো নির্বাহী কমিটি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যরা। কথা নেই বার্তা নেই কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দুর্নীতির ধারাটি বাদ দেয়া হয়েছে। এরপরই রায়টা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ঠিকই আছে ১নং ভাইস চেয়ারম্যানকে ভারপ্রাপ্ত করা হলো। তবে দেশে বিএনপির কি এমন কোনো নেতা নেই যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হবেন? দুর্নীতির দায়ে যিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি, রাজনীতি করবেন না বলে মুচলেকা দিয়ে যিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন তাকেই করতে হলো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন। বিএনপির যারা আছেন এখন দেখছি খুব কর্মঠ, বেশ কাজ করছেন তারা। তাদের কাউকে দায়িত্ব দেয়া গেল না! বিএনপির কী এতই দৈন্যদশা। দেশের ভেতরে কাউকে দেয়া গেল না। আমরা আর বলবো না। আমি বলতে গেলেই তো আবার দোষ!’
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এ দেশে নতুন নয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগ যুগ ধরেই এগুলো হচ্ছে। তবে এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে বেশি ছড়াচ্ছে। আর এটাই বাস্তবতা। প্রযুক্তি যেমন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, তেমনি সমস্যাও সৃষ্টি করে। তাই বলে মন্ত্রীকে গালি দিতে হবে সেটা ঠিক না।’ প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থতার দায়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী প্রশ্ন ফাঁস করেন না, বা সচিবও প্রশ্ন ফাঁস করেন না। তাহলে তাকে কেন সরে যেতে হবে? মনে হচ্ছে সরকারের ইমেজ নষ্ট করতে এটা একটা সুর তুলে দেয়া হচ্ছে প্রশ্নফাঁস প্রশ্নফাঁস। তিনি আরো বলেন, সাধারণত কতদিন আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়? পরীক্ষার ২০ মিনিট আগে। যদি কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট বা একঘণ্টা আগে, অথবা দুই ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র পায়, তাহলে এমন ফটোজেনিক ও মেধাবী পরীক্ষার্থী কে আছে, যে চট করে প্রশ্ন দেখেই উত্তর মুখস্থ করে ফেলতে পারে? এত ট্যালেন্টেড কে আছে? পারলে আপনারা ফাঁসকারীকে ধরিয়ে দিন। আমরা ব্যবস্থা নেবো, শাস্তি দেবো। এখন আর পারছে না। কোনো দিকে দোষ নাই, একটা নিয়ে খোঁচাখুচি!
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটিতে চারদিনের সরকারি সফর করেন। তিনি আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হংবো-এর আমন্ত্রণে ইফাদের বার্ষিক পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে অংশ নেন।
কমেন্ট বক্স