দামুড়হুদার ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী
- আপলোড তারিখঃ
১৬-০২-২০১৮
ইং
দামুড়হুদার ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী
বর্তমান প্রজন্মকে যেকোনো প্রতিযোগিতায় যোগ্য প্রমাণ করতে হবে
দামুড়হুদা অফিস: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজে দুই দিনব্যাপি বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, একাদশ, বিএম, ডিগ্রী, অনার্স ১ম বর্ষ ছাত্রছাত্রীদের নবীন বরণ ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠানের সমাপনি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে এ সকল অনুষ্ঠানের সমাপনী ঘোষণা করা হয়। কলেজের প্রিন্সিপাল কামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ থেকে ৯ বছর আগে এই কলেজটি ছিল মাত্র দেড়তলা বিল্ডিং এ। ২০০৮ সালে নির্বাচনে পর আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এমনটাই দেখেছিলাম। চোখে পড়ার মত তেমন কিছুই ছিলনা। কিন্তু ২০০৮ সালে শিক্ষা বান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর সেই দেড়তলা কলেজ আজ তৃতীয় ৪র্থ তলা মনোরম বিল্ডিং নির্মান করা হয়েছে। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এই কলেজই তার উদাহরণ। শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রতিমাসে এই কলেজের শিক্ষকদের পিছনে সরকারের ব্যয় করতে হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। তাছাড়া ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তি ও বিনামূল্যে বইও দিচ্ছে এই সরকার। সরকার শুধু দিয়েই যাবে তাতো হবেনা। আপনাদেরওতো সরকারকে কিছু দিতে হবে। কলেজে বর্তমান শিক্ষার মান খুবই নি¤œমুখি, শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। এজন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের শিক্ষার্থীর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আপনারা ছেলেমেয়েদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলুন। একবিংশ শতাব্দী হবে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। বর্তমান প্রজন্মকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তারা যেকোনো প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে প্রমাণ করতে পারে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সন্তান কি করছে, কার সাথে মিশছে, স্কুল-কলেজে গিয়েছে কি-না তা অভিভাবকদের জানতে হবে। সন্তানদের সাথে বন্ধুর মতো মিশতে হবে। তাদেরকে ভাল লেখা পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রে নয়, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। বৃদ্ধ পিতা-মাতা জন্য বয়ষ্ক ভাতা, বিধবা মা-বোনদের জন্য বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী মা-বাবা ভাই-বোন সকলের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা, দরিদ্র দিনমজুর ভাইয়ের গর্ভবতী স্ত্রীদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার জন্য গর্ভবতী ভাতা দিচ্ছে। যা বিশ্বের অন্যকোন দেশে নেই। সর্বশেষ তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভাল করে লেখাপড়া শিখতে হবে। কারণ তোমরাই দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যত। কোনভাবেই তোমরা বাল্য বিয়ে করবানা। বাল্য বিয়ে একটি পরিবার সমাজ ও দেশের জন্য অভিষাপ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান, দামুড়হুদা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার মখলেছুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি ও উপজেলা ক্রীয়া সংস্থার সেক্রেটারী এম, নূরুন্নবী, পাকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আলম, হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহাম্মদ আলী শাহ্ মিন্টু, জুড়ানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, দর্শনা পৌর আ.লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, দামুড়হুদা পাইলট গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেন, আশরাফুল আলম, বদর উদ্দীন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজু আহাম্মদ রিংকু প্রমুখ।
সমাপনি অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বক্তব্য শেষ হলে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়া বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ পত্র ও ক্রেষ্ট তুলে দেওয়া হয়। ২য় পর্বে শুরু হয় কলেজ ও অতিথি শিল্পিদের সংগিতা অনুষ্ঠান ও বাল্য বিয়ের কুফল নিয়ে নাটক। উল্লেখ্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পতাকা উত্তোলন ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে মশাল প্রজ্বলন করে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান।
কমেন্ট বক্স