বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পরীক্ষা শুরুর আগে মোবাইলে প্রশ্ন : সারাদেশে আটক ২৭

  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০২-২০১৮ ইং
পরীক্ষা শুরুর আগে মোবাইলে প্রশ্ন : সারাদেশে আটক ২৭
ডেস্ক রিপোর্ট: গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা শুরুর অনেক আগেই উত্তরসহ প্রশ্নপত্র চলে আসে পরীক্ষার্থীদের কাছে। এ সময় আটক করা হয় ২৭ জনকে। পরীক্ষা শুরুর অনেক আগেই উত্তরসহ পরীক্ষার্থীদের হাতে হাতে থাকা ফাঁস হওয়া সে প্রশ্ন পরীক্ষার আসল প্রশ্নের সাথে হুবহু মিলে যায়। গতকাল মঙ্গলবার এসএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে। প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার ফটিকছড়ি থেকে প্রশ্নসহ হাতেনাতে আটক করা হয় এক শিক্ষিকা ও ১৮ পরীক্ষার্থীকে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে নকল করে পরীক্ষা দেওয়ার দায়ে বহিষ্কার করা হয় ওই ১৮ জনসহ ৩৩ জনকে। এদিকে, পটিয়া আইডিয়াল হাই স্কুলের ৫০ জন শিক্ষার্থী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে করে নগরীর বাওয়া স্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসে। তাদের বহনকারী বাসটি কেন্দ্রের অদূরে ওয়াসার মোড়ে থামলে পরীক্ষা শুরুর পৌনে এক ঘণ্টা আগেই তারা মোবাইলে আসা প্রশ্ন ও উত্তর দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে নকল করে পরীক্ষা দেয়ার দায়ে বাওয়া স্কুল কেন্দ্র থেকে ২৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই অপরাধে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী বাওয়া স্কুলের দুই ছাত্রীকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বাওয়া স্কুলের ওই দুই শিক্ষার্থী সহোদর বোন। পরীক্ষা শুরুর আগে তাদের বাবা মোবাইল থেকে প্রশ্ন দেখে উত্তর বলে দিচ্ছিলেন তাদের। এছাড়া ফটিকছড়ির হেঁয়াকো বনানী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে প্রশ্নসহ সাত শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। কেন্দ্রের বাইরে এবং ভেতরের প্রাঙ্গণ থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। এদিকে বাওয়া স্কুল কেন্দ্রের সামনে বাসে থাকা ৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে যাদের কাছে প্রশ্ন পাওয়া গেছে তারা ভ্রাম্যমান আদালতকে জানায়, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে তাদের কাছে উত্তরসহ প্রশ্নপত্রের সফট কপি আসে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার প্রস্তুতি চলছিল। অপরদিকে, দিনাজপুরের ৩ ও বিরামপুরে ৩ জন মোট ৬ জন পরীক্ষার্থীকে মুঠোফোনসহ আটক করা হয়েছে। বিরল উপজেলার ধুকুরঝাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারের সম্মূখে একজন এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে স্মার্ট ফোনের গ্যালারীতে ২জন পরীক্ষার্থী কয়েকজনকে সাথে নিয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্ন ও উত্তরপত্র দেখার সময় ইউএনও তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। অপরদিকে বিরামপুর সরকারী উচ্চ বালিকা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ৩ পরীক্ষার্থীকে মোবাইলসহ আটক করা হয়। আটকের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা তাদের মোবাইল লক করে দেয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে মোবাইল লোক খুলে প্রশ্নপত্র আছে কিনা তা যাচাই করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, নীলফামারীর সৈয়দপুরের ক্যান্ট বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে থেকে জায়েদ আলী নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সাথে তার মোবাইল ম্যাসেজে থাকা প্রশ্নের মিল পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে, কুমিল্লার মুরাদনগরে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকারী সিন্ডিকেট চক্রের সক্রিয় সদস্য খাইরুল ইসলাম নামের এক যুবককে দুই বছরের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাল আদালত। সাজাপ্রাপ্ত খাইরুল ইসলাম উপজেলার কামাল্লা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের তারিকুল ইসলামের ছেলে।


কমেন্ট বক্স
notebook

১২ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ