মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ৩ কোটি ৭৮ লাখ হিসাবই বন্ধ
- আপলোড তারিখঃ
০৩-০২-২০১৮
ইং
সমীকরণ ডেস্ক: দ্রুততম সময়ে এক স্থান হতে অন্য স্থানে টাকা পাঠানোর অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম মোবাইল ব্যাংকিং। বর্তমানে এ সেবা ব্যবহার করেই মানুষ তাদের পরিবার পরিজন ও নিকটাত্মীয়ের কাছে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন। সর্বশেষ হিসাব মতে, দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহক সংখ্যা ছাড়িয়েছে পাঁচ কোটি ৮৮ লাখ। এর মধ্যে তিন কোটি ৭৮ লাখ হিসাবই বন্ধ রয়েছে। বাকি দুই কোটি ১০ লাখ সক্রিয় হিসাব দিয়ে ডিসেম্বর মাসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৯২১ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হিসাব খোলা ও পরিচালনায় কড়াকড়ি আরোপের ফলে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা কমেছে।
জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী, কোন এ্যাকাউন্ট থেকে টানা তিন মাস কোন ধরনের লেনদেন না হলে তা ইন-এ্যাকটিভ বা নিষ্ক্রিয় এ্যাকাউন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। আর তিন মাসের মধ্যে একটি লেনদেন হলেই তা সক্রিয় হিসেবে বিবেচিত। অবশ্য বড় কোন অনিয়ম না পাওয়া গেলে এ্যাকাউন্ট বন্ধ করে না ব্যাংক। কিন্তু সম্প্রতি মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় অপব্যবহার ঠেকাতে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে হিসাব খোলা ও পরিচালনা এবং লেনদেনে আরও বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, এখন একজন ব্যক্তি একটি সিম দিয়ে যে কোন মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একটি মাত্র হিসাব চালু রাখতে পারবেন। ওই নির্দেশনার পর যাদের একাধিক হিসাব ছিল তা বন্ধ করা হয়। চলমান রয়েছে, তা দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এই অবস্থায় ডিসেম্বর মাস শেষে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা ৯ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার। আর বন্ধ হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৭৮ লাখ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বন্ধ হিসাবের সংখ্যা মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, সমাপ্ত বছরের ডিসেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৯২১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। যদিও এ লেনদেনের পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে সক্রিয় হিসাব কমেছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ। তবে ডিসেম্বরে কিছুটা বেড়েছে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা। নভেম্বরে মোট পাঁচ কোটি ৮৫ লাখ ৭০ হাজার নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থাকলেও ডিসেম্বরে এসে তা দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার। আলোচ্য সময়ে মোট লেনদেন হয়েছে ২৮ হাজার ৫৭১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এই সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোট এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৪৫৯। বর্তমানে মোট ১৮টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ডিসেম্বরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসা কমেছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ক্যাশ ইন ট্রানজেকশন হয়েছে ১২ হাজার ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ক্যাশ আউট ট্রানজেকশন হয়েছে ১০ হাজার ৮৯৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পিটুপি ট্রানজেকশন হয়েছে চার হাজার ৪২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ৪০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বিভিন্ন বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার। এই সময়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নগদ প্রদান করা হয়েছে ১৩০ কোটি টাকা। সরকারী বিভিন্ন দফতরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়েছে ১২৮ কোটি ২১ লাখ। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে সরকারী দফতরে বিল দেয়ার পরিমাণ বেড়েছে ৬১২ দশমিক ৭ শতাংশ।
কমেন্ট বক্স