অভিভাবকদের আপত্তিতে ফিরে যেতে বাধ্য হলেন তাপস
- আপলোড তারিখঃ
১০-০১-২০১৮
ইং
জীবননগরে আলোচিত প্রধান শিক্ষককে বদলী : বাজদিয়া স্কুলে যোগদানে বাধা
আন্দুলবাড়ীয়া (জীবননগর) প্রতিনিধি: জীবননগরের আলোচিত প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দত্তকে অবশেষে উপজেলার হাবিবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাজদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়েছে। তিনি গতকাল সকালে ওই স্কুলে যোগদান করতে গেলে সেখানে তার বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ উঠায় জনতা, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির তোপের মুখে শেষ পর্যন্ত যোগদান করতে না পেরে ফিরে গেছেন। এ অবস্থায় প্রধান তাপস কুমারকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
জীবননগর সীমান্ত ইউনিয়নের হাবিবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দত্ত ও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিউলি খাতুনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। তাদের মধ্যে এক পর্যায়ে অনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপারটি জানাজানি হলে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে তাদেরকে সর্তক করা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার তা আমলে না নিয়ে বরং তার ইচ্ছা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে থাকে। অন্যদিকে তাপস কুমার ও শিউলিকে নিয়ে বিদ্যালয়ে গুঞ্জন দানা বেঁধে ওঠে। এক পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটি ও স্কুলের অভিভাবকেরা ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠেন। তারা ওই দুইজন শিক্ষককে স্কুুল থেকে অপসারণের দাবীতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এ ঘটনায় তদন্তের এক পর্যায়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তাদেরকে স্কুল থেকে অপসারণের দাবীতে মিছিল ও অবরোধ গড়ে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দত্ত ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলীকে সাময়িক প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাপারে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দত্ত আবারও হাবিবপুর স্কুলে যোগদান করতে গেলে স্কুলের ছাত্রছাত্রী,অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা তার বিরুদ্ধে ঝাড়– মিছিল শুরু করলে তিনি আর ওই স্কুলে যোগদান করতে পারে না। এক পর্যায়ে তাকে উপজেলার দুরবর্তী কোন বিদ্যালয়ে বদলীর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ অবস্থায় তাকে উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাজদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়।
বাজদিয়া গ্রামের দু’নারী অভিভাবক রেক্সোনা খাতুন ও ফেরদোসী বেগম বলেন, আমরা শুনেছি প্রধান শিক্ষক তাপসের চরিত্র ভাল নয়। ওই লোক আবার আমাদের স্কুলে এসে আমাদের ছেলেমেয়েদের কি শিখাবে। তার মত শিক্ষককে আমরা স্কুলে চাই না। ওই শিক্ষক আমাদের স্কুলে আসলে আমরা ছেলেমেয়েদের অন্য স্কুলে ভর্তি করব।
বাজদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দাতা সদস্য মুক্তার হোসেন অভিন্ন ভাষায় বলেন, প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দত্ত একজন খারাপ চরিত্রের শিক্ষক। তিনি যত জায়গায় চাকুরি করেছেন তার বিরুদ্ধে বার বারই অনৈতিক আচরণগত অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। এ ধরণের শিক্ষক দিয়ে কি ভাবে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া করানো যায়? তার মত শিক্ষককে আমরা চাই না। তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত যত অভিযোগ উঠেছে তার তো চাকুরি থাকায় ঠিক না। আমরা তাকে যোগদান তো দুরের কথা তাকে এলাকার কোন স্কুলে প্রবেশ করতে দেব না। তার চাকুরি থেকে বিদায় দেয়া উচিৎ।
আন্দুলবাড়ীয়া সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার জহুরুল হক বলেন,তাপস কুমার দত্ত একজন খারাপ প্রকৃতির শিক্ষক। তার ব্যাপারে আমরা যতটুকু জানি। তার চরিত্র ভাল নয়। তাই আমরা তাকে বিদ্যালয়ে যোগদান করতে দিইনি।
বাজদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওয়াসিকুর রহমান লিপুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার ও বাঁকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানোয়ার হোসেন স্কুলে আসার সাথে সাথে এলাকার অভিভাবক,জনপ্রতিনিধি,সুধি,শিক্ষানুরাগী মহল স্কুলে এসে উপস্থিত হয় এবং তারা প্রধান শিক্ষক তাপস কুমারকে স্কুলে যোগদানে বাঁধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে তারা দু’জনেই চলে যান।
জীবননগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,ঘটনাটি আমি শুনেছি। আমরা প্রধান শিক্ষক তাপস কুমারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত করি এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করি। তাকে উপজেলার দুরবর্তী কোন স্কুলে বদলীর আদেশ আসায় আমরা তাকে বাজদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করি। পরবর্তী ব্যবস্থা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবেন।
কমেন্ট বক্স