অতিমাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহারে সতর্ক না হলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়বে
- আপলোড তারিখঃ
০২-০১-২০১৮
ইং
কৃষিতে রাসায়নিকের ব্যবহার এবং মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ক সেমিনারে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক
নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ থেকে দেশের চাহিদানুযায়ী খাদ্য যোগান পেতে এবং রোগ বালাই দমনের জন্য ব্যবহার হচ্ছে অতিমাত্রায় অপরিকল্পিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। এসব রাসায়নিক সার কীটনাশক দুরারোগ্য ব্যাধীর মতো প্রবেশ করছে আমাদের দেহে। যা ব্যবহারে আমাদের এখনই সতর্ক হতে হবে। তা না হলে পরবর্তী সময়ে বড় ধরণের স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়তে হবে। এরফলে পরিবেশ বিপর্যয়ও ঘটতে পারে। নতুন বছরের শুরুতে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের জন সচেতনতা বৃদ্ধিতে কৃষিতে রাসায়নিকের ব্যবহার এবং মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অধিকহারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে ক্রমেই প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে পশু-পাখি এবং খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙ্গে পড়েছে জলজজীবের। ফসলে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষির প্রধান ৪টি সেক্টর-শষ্য সম্পদ, পশু সম্পদ, মৎস্য সম্পদ এবং বনজ সম্পদ। কৃষি জমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার হচ্ছে কিন্তু জৈব পদার্থের ব্যবহার হচ্ছে না। জৈব পদার্থ ব্যবহার না হওয়ায় জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সারের সবটুকু খাদ্যে পরিনত হতে পারছেনা। ব্যবহৃত সারের ৩০ শতাংশ হচ্ছে অপচয়, যা নানা প্রকার ক্ষতিকারক উপাদানে পরিনত হয়ে পরবর্তিতে প্লাবন বা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে জলাভূমি এবং বনভূমির উপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে। আবার এসব রাসায়নিক সার মিশ্রিত পানি পান করছে পশু-পাখি ফলশ্রুতিতে পশু সম্পদও হচ্ছে রোগাক্রান্ত। কেবল রাসায়নিক সারই নয় উচ্চফলনশীল ফসলে রোগ বালাইয়ের পরিমানও বেশি। চাষীরা ফসলের রোগ-বালাই দমনের জন্য ব্যবহার করছে কীটনাশক। তবে এসব কীটনাশকের বৃহৎ অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে অপরিকল্পিত ভাবে এবং প্রয়োজনের তুলনায় অধিক।’ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারীর সার্বিক পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষিতে রাসায়নিকের প্রভাব ও বিভিন্ন দিক নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার তালহা জুবায়ের মাসরুর এবং পশুর শারিরীক অবক্ষয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আলোচনা করেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা. আ. হা. ম. শামিমুজ্জামান। সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেরা ভাইস চেয়ারম্যান হযরত আলীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ও সাধারণ কৃষকগণ।
কমেন্ট বক্স