বিশেষ দিনেও ব্রয়লার মুরগি : পৌরসভা নজরদারিতেও অনিয়ম অব্যাহত
- আপলোড তারিখঃ
২৭-১২-২০১৭
ইং
মেহেরপুর হাসপাতালে বরাদ্দের কম ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ
মাহাবুব আলম/মাসুদ রানা: দীর্ঘদিন ধরে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের রোগিদের মাঝে পরিমানে কম ও নিম্নমানের খাবার সরবারহ করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার ও হাসপাতাল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে। গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের কথা থাকলেও এই বিশেষ দিনেও পরিমানে কম ও নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের চিত্র দেখতে পান মেহেরপুর পৌর মেয়র। গত শনিবারও খাসির মাংসের পরিবর্তে ব্রয়লার মুরগির মাংস দেওয়া হয়েছে। শুধু নিম্নমানের খাবার নয় অভিযোগ রয়েছে প্রায়শই রোগীদের দুপুরের খাবার সন্ধ্যায় ও বরাদ্দের অর্ধেক খাবার দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাসির মাংসের পরিবর্তে ব্রয়লার মুরগি ও স্বাস্থ্যসম্মত মাছের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে অল্প দামের অস্বাস্থ্যকর পাঙ্গাষ মাছ। এছাড়াও চাল, মাংস, মাছ, তেল, ডাল ও জ্বালানি সরবরাহ করা হয় বরাদ্দের তুলনায় কম ও নিম্নমানের।
গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রোগিদের উন্নত খাবার দেওয়ার কথা। ওইদিন রোগী প্রতি ৩০০ গ্রাম খাসির মাংস ও চিকন চালের ভাত এবং একটি করে আপেল ও ২টি ডিম দেওয়া মেন্যুতে ছিলো। অথচ দেওয়া হয় ব্রয়লার মুরগির মাংস, মোটা চালের ভাত, একটি ডিম ও এক চতুর্থাংশ আপেল। ৭৫ কেজি মাংসের পরিবর্তে ৫৯ কেজি, ১৫০ কেজি চালের পরিবর্তে ৯০ কেজি, ৫০০ পিস মিষ্টির পরিবর্তে ৩২৫ পিস, ২৫ কেজি দইয়ের পরিবর্তে ১১ কেজি মালামাল সরবরাহ করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। বিষয়টি পৌরসভার প্রতিনিধিরা যাচাই করে দেখলে তাদের কাছে ধরা পড়ে। তাছাড়াও দই ও মিষ্টি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন পৌর কতৃপক্ষ।
মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের বাসিন্দা রোগি হারুনুর রশিদ জানান, আমি ৭দিন যাবত মেহেরপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি। ৭দিনে ২দিন পোল্ট্র্রি মুরগি ও পাঙ্গাস মাছ দেওয়া হয়েছে। তাও আবার দুপুরে যা দেওয়া হয় তারই এক টুকরো রাতে দেওয়া হয়। অথচ ৭দিনে দুই দিন খাসির মাংস দেওয়ার কথা।
রোগির আত্মীয় নুরজাহান বেগম জানান, গত শনিবার আমাদের খাসির মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও দিয়েছে পোল্ট্রি মুরগি। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের প্রধান বাবুর্চী মনিরুল আলম বলেন, গতকাল শনিবার খাসির মাংস দেওয়ার কথা ছিল। অথচ ব্রয়লার মুরগি সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও ১৪৫ কেজি চালের পরিবর্তে ১শ কেজি, সাড়ে ৯ কেজি মাছের পরিবর্তে ৮ কেজি, ৮কেজি তেলের পরিবর্তে ৭ কেজি, ৭মন জ্বালানির পরিবর্তে ২মন সরবরাহ করা হয়। আর মালামাল দেরি করে সরবারহ করায় রোগিদের খাবার দিতে দেরি হয়।
পৌরসভার প্রতিনিধি জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশান বলেন, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মেহেরপুরবাসীর একটি সম্পদ। জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশের চিকিৎসার ভার নিচ্ছেন। তখন দেখি আমাদের মেহেরপুর হাসপাতাল দূর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। তাই আমি এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মেহেরপুর হাসপাতালের ঠিকাদার লাল মিয়া জানান, মাংস নিয়ে বাজার থেকে আসতে সময় লাগে কিন্তু তার আগেই আমার উপর অর্তকিত হামলা চালিয়ে সব এলোমেলো করে দেয়। আমি মাল কম দিতে পারি না। কারন মালামাল বুঝে নেওয়ার জন্য আরএমও তত্বাবধায়কসহ অনেকে আছেন। তবে অভিযোগ আংশিক স্বীকার করে নিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলায় পুরনো দামে খাবার সরবরাহ করতে হচ্ছে। যার কারণে সমস্যা হচ্ছে। নিজেই মামলা করে দীর্ঘদিন টেন্ডার বন্ধ রেখে নিজে ঠিকাদারী করছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি নানা অজুহাতে উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান, অনিয়মের কথা অনেকটা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখছি। আমাদের কমিটি খাবার মেপে নিচ্ছে। যেটুকু কম থাকছে বিল পরিশোধকালে সেটা কেটে নেব। দুই দিন অনাকাঙ্কিত ঘটনার কারণে খাবার দিতে দেরি হয়েছে। তাছাড়াও খাসির মাংসের জায়গায় মুরগির মাংস দেওয়া হয়েছে অনাকাঙ্কিত ঘটনার কারনে। দেরি হওয়ায় পরে খাসির মাংস না পেয়ে ব্রয়লার মুরগির মাংস দেওয়া হয়েছে।
মেহেরপুর পৌরসভার মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রোগীদের জন্য যে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে তা কিছুতেই উন্নত বলা যায় না। আবার পরিমাণেও খাবার কম। দই, মিষ্টি থেকে তো দুর্গন্ধ বের হয়। এসব খাবার রোগিরা খেয়ে আরো বেশি অসুস্থ হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। আমরা পৌরসভা থেকে খাবার বুঝে নেওয়ার জন্য পৌর প্রতিনিধি দিলেও তাদের উপস্থিতিতে রোগির খাবার নিয়ে অনিয়ম করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা করে খুব দ্রুত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমেন্ট বক্স