বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি

৭০ ছাত্র গ্রেপ্তার, পুলিশসহ আহত শতাধিক
  • আপলোড তারিখঃ ২২-০৭-২০২৬ ইং
বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি

ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় রাহুল গান্ধীকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা গেছে।


কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ শীর্ষ বিরোধীদের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে অবস্থান নিয়ে রাতভর ধর্না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়ে রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের দুর্ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয় এবং আটক করে। আটক হওয়ার আগে সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ মানেই প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর আক্রমণ। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভেবেছেন উত্তর না দিয়েই তিনি পার পেয়ে যাবেন, কিন্তু এবার তা হবে না। দেশের শিক্ষার্থীদের অধিকারের দাবিতে সবাইকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ বিক্ষোভ চলাকালে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং অকুস্থলে এসে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে সে আলোচনা ব্যর্থ হয়।


কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পার্লামেন্টে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনার দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে বিজেপি এবং দিল্লি পুলিশের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আন্দোলনকারীদের আটক করা হয়েছে। ৭০ ছাত্র গ্রেপ্তার, পুলিশসহ আহত শতাধিক : ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ও তার সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সোমবার দিনভর দফায় দফায় ধাওয়া, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তরুণ-তরুণীদের ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১৮ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সহিংস আচরণ এবং সরকারি যানবাহন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


ভারতের প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (নিট)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জুন থেকে রাজপথে আন্দোলনে রয়েছে ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ ককরোচ জনতা পার্টি। সোমবার দাবির সমর্থনে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকা থেকে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল সিজেপির। তবে সকালে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ পদযাত্রায় বাধা দেয় এবং সেটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জও করেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে ছত্রভঙ্গ হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই আবার যন্তর মন্তর এলাকায় জড়ো হন সিজেপি সমর্থকরা এবং কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করেন।


এ সময় পুলিশ ফের বাধা দিতে এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ৭০ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও পাথর নিক্ষেপ করেছেন। পাশাপাশি বারবার পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেছেন, সরকারি যানবাহন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করেছেন এবং এমন মাত্রার সহিংসতা উসকে দিয়েছেন, যা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।”


ককরোচ পার্টির পর এবার পথে নামলেন কৃষকরা :

ভারতে প্রশাসনিক নীতি ও ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তরুণ ও নাগরিক সমাজের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচির মধ্যেই এবার রাস্তায় নেমেছেন কৃষকরাও। ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা করা পাঞ্জাবের শত শত কৃষককে শম্ভু সীমান্তে আটকে দিয়েছে হরিয়ানা পুলিশ। ফলে রাজধানী দিল্লি এখন একযোগে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে পড়েছে। গতকাল হরিয়ানায় প্রবেশপথে সিমেন্টের ব্লক, লোহার কাঁটা এবং বহুতল ব্যারিকেড বসিয়ে কৃষকদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়। এ দৃশ্য ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে কৃষকরা শম্ভু সীমান্তেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় পাঞ্জাব ও হরিয়ানা, উভয় রাজ্য সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেছেন আন্দোলনকারীরা। সূত্র : এনডিটিভি, টিওআই।



কমেন্ট বক্স
notebook

বদরগঞ্জ বাজারে সংবর্ধনা গ্রহণকালে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল