ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পৃথক দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পৌর কর্মকর্তাসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বাস ও ট্রাক্টরের ধাক্কায় ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন। গতকাল সকালে মোটরসাইকেলযোগে অফিসে যাওয়ার পথে কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে দুর্ঘটনার শিকার হন আ স ম আব্দুস সামাদ (৪৮) নামের এক পৌর কর্মকর্তা। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়াগামী দ্রুতগতির 'রূপসা পরিবহন'-এর একটি বাস তার মোটরসাইকেলটিকে সজোরে চাপা দিলে তিনি মারাত্মক আহত হন। নিহত আব্দুস সামাদ কালীগঞ্জ পৌরসভায় কসাইখানা পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জুলফিকার আলী জানান, পুলিশ ঘাতক বাসটি জব্দ করতে পারলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে, একই দিন সকালে মহেশপুর উপজেলার কুল্লাগাছা মাদ্রাসার সামনে ইট-বালুবাহী একটি বেপরোয়া ট্রাক্টরের মুখোমুখি ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের চালক মামুন হোসেন (৩২) নিহত হয়েছেন। নিহত মামুন উপজেলার গাড়াপোতা গ্রামের বাহাদুর খানের পোষ্য ছেলে।
জানা গেছে, সকালে বাড়ি থেকে যাত্রী নিয়ে বের হওয়ার পর বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাক্টরটি ভ্যানটিকে পিষে দিলে যানটি উল্টে গিয়ে চালকসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভ্যানচালক মামুনের মৃত্যু হয়।
আহত অন্য চারজনকে একই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মহেশপুর থানার ওসি আজাদ রহমান দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনা কবলিত যান দুটি জব্দ করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান খবর নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতদের মরদেহ **ময়নাতদন্তের** জন্য ঝিনাইদহ মর্গে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর ও কালীগঞ্জ থানায় পৃথক দুইটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
ঝিনাইদহ অফিস