চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালিত
ডেস্ক রিপোর্ট: চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরসহ সারাদেশে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন, শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন, সফল জননী, সমাজ উন্নয়ন ও নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করায় শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, `নারীরা আজ অগ্রসর, চাই সমতা জীবনভর’’ এই সেøাগানকে সামনে রেখে র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে পাঁচজন ও জেলা পর্যায় থেকে পাঁচজন নারীকে সমাজের অসামান্য অবদান রাখার জন্য শ্রেষ্ঠ জয়িতা সংবর্ধনা প্রদান বরা হয়। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার সময় জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা এর উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গন থেকে এক র্যালি বের হয়। এ সময় র্যালিত অংশগ্রহন করেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদ। র্যালি শেষে সকাল ১১টার সময় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আওয়ালের সভাপত্বিতে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াশীমুল বারী, চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সরকারী আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম ই¯্রাফিল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন (সদর সার্কেল)। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বেগম রোকেয়া মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নারীমুক্তির জন্য লড়াই করেছেন। নারীমুক্তির জন্য তিনি পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন নারী শিক্ষাকে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম রোকেয়ার জীবন অনুসরণীয়। তাই বেগম রোকেয়ার চেতনাকে ধারণ করে নারীমুক্তির তথা সমাজ পরিবর্তনের লড়াইকে বেগবান করার আহ্বান জানান বক্তারা। আলোচনা সভা শেষে `জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ` শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় নারীদের অগ্রযাত্রায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য এ বছর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে পাঁচজন ও জেলা পর্যায় থেকে পাঁচজন নারীকে জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচন করে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনা করেন উম্মে সালমা।
দামুড়হুদা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দামুড়হুদায় আলোচনা সভা জয়িতাদের সংবর্ধনা ও সেলাই মেশিন বিতরণের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যোথ আয়োজনে গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে যথাযোগ্য মর্যাদায় এই অনুষ্ঠান করা হয়। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাও. আজিজুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালমা জাহান পারুল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হুসনেআরা জাহান প্রমুখ। বেগম রোকেয়া দিবসের আলোচনা সভা শেষে ৪জন নির্বাচিত জয়িতারা উপজেলার লাখনাথপুর গ্রামের ছালেহা খাতুন, কলাবাড়ী গ্রামের রাবেয়া খাতুন, দর্শনা পৌর এলাকার রেখা খাতুন ও মদনা ছয়ঘরিয়া গ্রামের মুসলিমা খাতুনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে প্রশিক্ষিত ৩৯ জন মহিলার হাতে সেলাই মেশিন তুলেদেন অতিথিবৃন্দু।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, জীবননগরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মধ্যে দিয়ে বেগম রোকেয়া দিবস ও ৪ জন জয়িতার সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার সময় জীবননগর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে আন্তজার্তিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপদযাপন উপলক্ষে একটি র্যালী বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজার সভাপতিত্বে একট আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ কার্যক্রমের আওতায় বেগম রোকেয়া দিবস অনুষ্ঠানে কর্ন্দপপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী জয়িতা শাহানার খাতুন, গয়েশপুর গ্রামের আজিজুল হকের স্ত্রী জয়িতা মনোয়ারা খাতুন, খয়েরহুদা গ্রামের মতিয়ার রহমানের স্ত্রী জয়িতা মাহফুজা খাতুন, সোন্দাহ গ্রামের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী জয়িতা নাহার বানু এবং দৌলৎগঞ্জপাড়ার নাজমুলহুদা টিপুর স্ত্রী জয়িতা শারমিনকে সংবর্ধনা প্রদান করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু. মো. আ. লতিফ অমল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান হাফিজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকী, অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়ার জীবনী আলোচনা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুমানা বিলকিস। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, শিক্ষক আ. সামাদ, যাদব কুমার প্রমানিক, সাংবাদিক জাহিদ বাবুসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা নারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এনজিওর কর্মকর্তাগন ও সুধী ব্যাক্তিগন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন জীবননগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমআর বাবু।
মেহেরপুর অফিস জনিয়েছে, মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা অধিদপ্তরের আয়োজনে র্যালী, আলোচনা সভা ও জয়িতাদের সম্মানান প্রদানের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এসএম শফিউল আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোমানা আহামেদ, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান শামীম আরা হীরা, মেহেরপুর জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি মোশারফ হোসেন প্রমুখ। এসময় জেলার বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় জেলা পর্যায়ে ৫জন ও সদর উপজেলা পর্যায়ে ৫জনকে এবং গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার পৃথকভাবে ১০ জন জয়িতাকে সম্মনানা প্রদান করা হয়। এর আগে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালী বের করা হয়। জেলা পর্যায়ে সম্মনান প্র্াপ্তরা হলেন,অর্থনৈতৈকভাবে সাফল্য অর্জন করায় মুজিবনগর উপজেলা পুরন্দপুর গ্রামের মৃত আক্তার আলীর মেয়ে মলিনা খাতুন, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করায় সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের কাদের মোল্লার মেয়ে আনজুমান আরাকে, সফল জননী হিসেবে শহরের মল্লিক পাড়ার মৃত শের আলীর স্ত্রী সুফিয়া কেগমকে, নির্যাতনের বিভীষিকা পিছনে ফেলে নতুনভাবে জীবন শুরু করায় গাংনী উপজেলার শাহারবাটি গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী নুর জাহান খাতুনকে এবং সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখায় সদর উপজেলার আফসার আলীর মেয়ে আসমানতারা মিছরিকে জয়িতা হিসেবে সম্মনানা প্রদান করা হয়।

অপরদিকে, মেহেরপুরে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। মেহেরপুর মধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের উদ্যোগে গতকাল শনিবার বেলা ২ টার প্রতিষ্ঠানের হলরুমে আলোচনা সভা শুরু হয়। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামীম আরা হীরার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানের সহকারি প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মহাঃ আখতারুজ্জামান, সহকারি শিক্ষক মোখলেছুর রহমান। এর আগে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন এমপি মেহেরপুর মধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও বিএম কলেজে পৌঁছালে প্রতিষ্ঠানের গার্ল গাইডস ও গার্লস ইন স্কাউটদল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিরা তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরে প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ের ৬ জন কৃতি ছাত্রীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

গাংনী অফিস জানিয়েছে, গাংনীতে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে মানব বন্ধন,আলোচনা সভা ও উপজেলা পর্যায়ে জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে গতকাল শনিবার সকাল ১১টার মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম শফিকুল আলম, কাথুলী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রানা, সাহারবাটী ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, গাংনী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সন্ধানী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু জাফর, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শফি কামাল পলাশ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাছিমা খাতুন। পরে ‘জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ কার্যক্রমের আওতায়’ ৫ ক্যাটাগরিতে ৫ জন জয়িতাদের মধ্যে সম্মাননা ক্রেষ্ট ও সম্মননা পত্র প্রদান করা হয়। অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জন কারী নারী হিসাবে চৌগাছার এমদাদুল হকের স্ত্রী রেহেনা ইয়াসমিন, শিক্ষা ও চাকুরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী চৌগাছা বন বিভাগ পাড়ার প্রভাষক হারুন অর রশীদ এর স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন, সফল জননী নারী হিসাবে জুগিন্দা গ্রামের মরহুম এসএম গোলাম কবীবের স্ত্রী মুকরিমা খাতুন, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন এমন নারী হিসাবে সাহারবাটী গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী নুরজাহান বেগম ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন এমন নারীদের মধ্যে গাংনী ভিটা পাড়ার আমিরুল ইসলামের স্ত্রী আসমা খাতুনকে সম্মাননা ক্রেষ্ট ও সম্মননা পত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,এনজিও প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নারী নেত্রীসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।