সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গার সংস্কৃতি ও ভাষা রক্ষার নেতৃত্বে ভাষা পরিষদ

  • আপলোড তারিখঃ ০১-১২-২০১৭ ইং
চুয়াডাঙ্গার সংস্কৃতি ও ভাষা রক্ষার নেতৃত্বে ভাষা পরিষদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: নানা সংকটে সবসময় সর্বকালেই তরুণরা এগিয়ে এসেছে। রক্ষা করেছে তার নিজস্ব শিক্ষা সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস ঐতিহ্য এবং নিজের অধিকার। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সৃষ্টির প্রতিটি পরতে পরতে তারুণ্যের শক্তি এবং জয়ের কথা আমরা জানি। কিন্তু কিছু মানুষ এদেরকে এসব ব্যাপারে তুরণদেরকে অনুউৎসাহিত করে। শক্তির প্রেরণাদায়ী হয়ে উঠার আগেই যেন তারা তারুণ্য শক্তিকে শুরুতেই ফেলিয়ে দিতে চায় করুণ অন্ধকারে। আবার এমন বহু মানুষ আছে তরুণদের প্রেরণাদায়ী হয়ে তরুণদের শক্তি সংগঠিত এবং উজ্জীবিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। তেমনি একজন তরুণ ` চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক ভাষা পরিষদ` এর প্রতিষ্ঠাতা শামীম হোসেন মিজি। চুয়াডাঙ্গাবাসীর প্রাণের ভাষা চুয়াডাঙ্গার আঞ্চলিক ভাষা। আমরা বাংলা চলিত শুদ্ধ রীতির কাছাকাছি এই অঞ্চলের ভাষা। তার কারণ যে নদীয়া অঞ্চলের ভাষাকে ভাষাবিজ্ঞানীরা সুন্দর ভাষা বলে স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন চুয়াডাঙ্গা সেই অঞ্চলে অবস্থিত। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় চুয়াডাঙ্গাবাসীর মুখ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ভাষাটি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এ ভাষায় কথা বলতে পারেন না। অনেকে ভালোমত বোঝেনও না। তাই গড়ে তুলেছে একটি সামাজিক সংগঠন ` চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক ভাষা পরিষদ`। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি গ্রুপ ও খুলেছে । তাতে স্বতঃস্ফূর্ত একটু মনের ভাব প্রকাশের জন্য যোগ দিচ্ছে চুয়াডাঙ্গার মানুষ । মাত্র ৬ দিনের যার সদস্য সংখ্যা ১০ (দশ) হাজার । সদস্যারা প্রতিদিন গড়ে ৬০০ পোস্ট করে এই গ্রুপে। গ্রুপটির কার্যক্রমে চুয়াডাঙ্গার সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ প্রশংসায় ভাসছে । চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিক বলেন `গ্রুপটির কার্যক্রম খুবই প্রশংসনীয়। সংস্কৃতির প্রধান অংশ ভাষা, তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস`। গ্রুপের এক প্রবাসী সদস্য এ এস কিউ জামান সোহেল বলেন, `আমরা চুয়োডাঙ্গার অনেক মানুষ পেটের জন্নি অনেক অনেক দূরি দূরি থাকি, বিভিন্ন কাজ করি , কেউ নিজের ভাষায় কতা বলতি পারি নে ,নিজেদের একটা গ্রুপ পালাম , সবাই এক ইলাকার ভাষায় কতা বুলতে পারছি`। গ্রুপের অন্যতম মোডারেটর ও চুয়াডাঙ্গা ইনফো ডট কম এর প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসাইন বাপ্পী বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নিজস্ব ভাষার স্বীকৃতি থাকলেও আমাদের বেলায় ভিন্ন। অথচ এক সময় আমাদের স্থানীয় ভাষার একটা দারুণ অবস্থান ছিল। বর্তমান প্রজন্ম ভুলতে বসেছে বাপ-দাদাদের মধুর উচ্চারণ। দৈনিক চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক আবদুল আজিজ বলেন, ভাষা মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম । কিন্তু সেই ভাষা বিভিন্ন ভাষার প্রভাবে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে । এই গ্রুপটি চুয়াডাঙ্গার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি। গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ডুসাকের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন মিজি বলেন, আজকাল আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানাবিধ কারণে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার করাটা হয়ে ওঠেনা। দিন দিন আমাদের চুয়াডাঙ্গার আঞ্চলিক ভাষা থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে অনেক শব্দ । আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে তাদের পূর্বপুরুষের ব্যবহৃত ভাষার সাথে পরিচিত করতে, শিকড়ের কাছাকাছি রাখতে আমাদের আঞ্চলিক ভাষাটা ধরে রাখা দরকার । গ্রুপের লক্ষ্য চুয়াডাঙ্গার কৃষ্টি ,সংস্কৃতি ও ভাষার সংরক্ষণ ও প্রচার করা । তিনি আরও জানান আমরা একটি আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বের করার জন্য কাজ করছি।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড