পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানো ও স্বপ্ন পূরণের আশায় ২৪ বছর আগে আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামের হাসান আলী ওরফে পুটু। দীর্ঘ ২৪ বছর পর প্রবাস থেকে লাশ হয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন তিনি। হাসান আলী কালিয়াবকরী গ্রামের মৃত উসমান গনির ছেলে। গত ১ সেপ্টেম্বর আফ্রিকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। পরে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে তার মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়ি কালিয়াবকরীতে পৌঁছায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৪ বছর আগে ভাগ্য পরিবর্তন ও পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় আফ্রিকায় পাড়ি জমান হাসান আলী। সেখানে দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন তিনি।
প্রবাসে গিয়ে এক আফ্রিকান নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন হাসান আলী। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় এক সন্তান। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আফ্রিকাতেই চলছিল তার জীবন। তবে হঠাৎ করেই নেমে আসে নির্মম পরিণতি। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকায় আকস্মিকভাবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন হাসান আলী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
দীর্ঘ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় এক সপ্তাহ পর তার মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে কালিয়াবকরী গ্রামে ভিড় করেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী।
দীর্ঘ ২৪ বছর আগে জীবিত অবস্থায় পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় দেশ ছেড়েছিলেন হাসান আলী। সেই মানুষটিই ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে। তার মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, শোকাহত পুরো এলাকাবাসী। অন্যদিকে, আফ্রিকায় রেখে যাওয়া তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
প্রতিবেদক দামুড়হুদা