সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মেহেরপুরের সিংহাটিতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু!

  • আপলোড তারিখঃ ২৮-১১-২০১৭ ইং
মেহেরপুরের সিংহাটিতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু!
বারাদী প্রতিনিধি: মেহেরপুর সদরের সিংহাটি গ্রামে পানির গর্তে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদরের সিংহাটি গ্রামের পুর্বপাড়ায় দরিদ্র দিনমজুর মহিদের নাতি রিয়াদ (২) সকালে বাড়ী থেকে সবার অগোচরে খেলতে বেরিয়ে পাশের বাড়ির ইকবারের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন টিউবয়েলের ব্যবহৃত পানির অরক্ষিত কুয়ায় পড়ে যায়। রিয়াদ ছিল অত্যন্ত দুরন্ত ও চঞ্চল স্বভাবের, বাড়িতে দীর্ঘসময় রিয়াদকে না দেখতে পাওয়ায় শুরু হয় খোঁজাখুজি। এরই এক পর্যায়ে তার লাশ মিলল ঐ কুয়ার ভিতর। স্থানীয়রা জানান, পুর্ব সিংহাটির দিনমজুর মহিদের মেয়ে ডলি খাতুনের পার্শ্ববর্তী গ্রামে বিয়ের পর তালাক হয়। তালাকের পর থেকে সে তার নানীর বাড়ী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানার কুড়ালগাছি গ্রামে থাকতো। নানী বাড়ী থাকাকালীন ঐ গ্রামের মাইনুলের ছেলে রনির সাথে তার প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মাঝে দুজনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের ফলে ডলি খাতুন গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এ নিয়ে গ্রাম্য সালিশে স্থানীয় মাতবররা ডলির গর্ভপাত করানোর জন্য ত্রিশ হাজার টাকায় বিষয়টি আপোষ মিমাংশা করে। পরবর্তীতে ডলি খাতুন কুড়ুলগাছি থেকে নিজ গ্রাম সিংহাটিতে চলে আসে। গর্ভপাত ঘটানোর জন্য ডলি খাতুন ডাক্তারের কাছে গেলে চার মাসের গর্ভপাত করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়। উপায়ান্তর না পেয়ে সে ভারতে পালিয়ে গিয়ে সেখানে পুলিশের হাতে আটক হলে তাকে সেখানে জেলহাজতে রাখা হয়। জেলে থাকা অবস্থায় ডলি খাতুন এক পুত্রসন্তান প্রসব করে। তার নাম রাখা হয় রিয়াদ। এদিকে, ভারতে দু’বছর জেলে থাকার পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন জনিকে দেশে ফেরত পাঠায়। ৭ মাস আগে ডলি খাতুন পিতার বাড়ী সিংহাটি গ্রামে চলে আসে এবং মেহেরপুর সদর থানায় বাদী হয়ে জনির বিরুদ্ধে নারী পাচার ও নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করলে ১৫ দিন আগে পুলিশ জনিকে গ্রেফতার করে। জনি বর্তমানে মেহেরপুর জেলহাজতে আটক আছে। মামলাটি বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় আছে। এরই মাঝে ঝরে গেল পিতৃত্বের দাবীকারী শিশু রিয়াদের প্রাণ। খবর পেয়ে বারাদী ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই বাবলু মিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি সদর থানায় অবহিত করলে মেহেরপুর থানা পুলিশ মামলার স্বার্থে শিশু রিয়াদের ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য লাশ মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করলে এশা বাদ গ্রাম্য কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড