মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্যাতন-হামলা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চাইলেন সালাহ উদ্দিন
  • আপলোড তারিখঃ ২২-০৯-২০২৬ ইং
সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্যাতন-হামলা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নির্যাতন, একাধিকবার হামলা, মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, প্রাণনাশের হুমকি এবং মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেছেন গণমাধ্যমকর্মী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন সালাহ উদ্দিন। তিনি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার কোর্টপাড়ার বাসিন্দা আইয়ুব আলীর ছেলে।


লিখিত বক্তব্যে সালাহ উদ্দিন বলেন, পারিবারিক অশান্তি, মনের অমিল, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অপমান ও প্রাণনাশের হুমকি এবং তাঁর বৃদ্ধ বাবার ওপর নির্যাতনের কারণে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাবেক স্ত্রী আসমা আক্তারকে তালাক দেন তিনি। আসমা আক্তার ঝালকাঠির রাজাপুর এলাকার আশ্রাফ আলী খলিফার মেয়ে।


সালাহ উদ্দিনের অভিযোগ, তালাকের নোটিশ পাঠানোর দুই দিন পর তাঁর সাবেক স্ত্রী ঢাকার হাজারীবাগ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন কারাগারে থাকার পর হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরে ঢাকার মিতালী রোডের ভাড়া বাসায় ফিরে দেখেন, সেখানকার মালামাল সাবেক স্ত্রী সরিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করেন।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই মামলায় হাজিরা দিতে ঢাকা জজ কোর্টে গেলে সাবেক স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আদালত প্রাঙ্গণে জনসম্মুখে তাঁকে মারধর করেন। সালাহ উদ্দিন বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কিডনি রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গেলে সাবেক স্ত্রী, তাঁর মা, দুই ভাই ও ভাবিরা হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে মারধর করেন এবং তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে দারুস সালাম থানা পুলিশের সহযোগিতায় তিনি রক্ষা পান বলে দাবি করেন।


এরপর একই বছরের মে মাসে সাবেক স্ত্রী গভীর রাতে ঢাকার আদাবরের বাসায় গিয়ে হামলা করেন এবং তাঁর মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন সালাহ উদ্দিন। জুলাই মাসে গ্রামের বাড়ি আলমডাঙ্গা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেসে ঢাকায় ফেরার পর কমলাপুর রেলস্টেশনে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাঁকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় তাঁর কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় তিনি রক্ষা পান বলে জানান।


সালাহ উদ্দিন আরও বলেন, তাঁর সাবেক স্ত্রীর ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান রনি চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁর ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেন। টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাঁর ছোট ভাই চুয়াডাঙ্গা আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ২৭ আগস্ট সাবেক স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা আদালতে এসে তাঁকে আবারও মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তাঁর দাবি, তালাকের প্রায় ২০ মাস পর সাবেক স্ত্রী আবারও ঝালকাঠি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেছেন। মামলার বিষয়টিকে রাজনৈতিক ও অন্যান্যভাবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সালাহ উদ্দিন।


সংবাদ সম্মেলনে নিজের বাবার ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। সালাহ উদ্দিন বলেন, ২০২২ সালে তাঁর সাবেক স্ত্রী তাঁর বাবাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এতে বাবার কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং এরপর থেকে তিনি বিছানাগত। ওই সময় গ্রামের বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও গয়না সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।


পরে বাবাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেলে সাবেক স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মিতালী রোডের বাসায় তাঁদের আটকে রাখেন বলেও দাবি করেন সালাহ উদ্দিন। বর্তমানে তাঁর বাবা-মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধেও ঝালকাঠি আদালতে মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেখানে গেলে তাঁদের ওপর হামলা, গণপিটুনি ও গুমের আশঙ্কা করছেন বলেও দাবি করেন সালাহ উদ্দিন।


এছাড়া ‘নিলুফা ইয়াসমিন’ নামে একটি ফেসবুক প্রোফাইল ব্যবহার করে আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতার নাম তাঁদের অজান্তে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন সালাহ উদ্দিন।


সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সাবেক স্ত্রী আসমা আক্তার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাইও সম্ভব হয়নি।



কমেন্ট বক্স
notebook

টিউবওয়েল পেয়ে খুশি নুরজাহান