দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গা বাজারে হঠাৎ বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সার-বীজসহ কৃষি উপকরণের বাড়তি দাম এবং সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিকে সবজির দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে নতুন করে সবজি চাষও করতে পারছেন না কৃষকরা। এতে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল সোমবার কার্পাসডাঙ্গা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কচু ৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, কলা ৪০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, কপি ৪০ টাকা, কুমড়া ৪০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, ওল ৫০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে অনেক সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সার, বীজ ও শ্রমিকের খরচও বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় সবজি উৎপাদনে খরচ অনেক বেশি হচ্ছে।’ বাজার করতে আসা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘প্রতিদিনই কোনো না কোনো সবজির দাম বাড়ছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কিনতে গেলেই অনেক টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।’
ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারে সরবরাহও কিছুটা কমেছে। সরবরাহ কম থাকায় কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে।’ স্থানীয় ক্রেতারা জানান, সবজির দাম স্বাভাবিক রাখতে বাজারে নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। এতে সাধারণ মানুষের ওপর বাজারের বাড়তি চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন তারা।
প্রতিবেদক কুড়ুলগাছি