সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চুয়াডাঙ্গার আজমুল হোসেন নিহতর ঘটনা

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ পরিবারের, মামলা
  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৯-২০২৬ ইং
খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চুয়াডাঙ্গার আজমুল হোসেন নিহতর ঘটনা

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন ওরফে আযমকে (২৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। গতকাল রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে আজমুল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় করুণ দৃশ্য। পরিবারের বড় ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় আজমুল হোসেনের মা আসমা বেগম।


তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বাড়ি এসছিলো। শুক্রবার আবার চলে যায়। রাতে সাড়ে আটটার দিকেও আমাদের সাথে কথা হয়। সে টিউশনি করাতো, সেখান থেকে ফিরে মেসে যাচ্ছিল জানায়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফোন আসে আমার ছেলের নাম্বার থেকেই। তখন সে জানায় আব্বু আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারছে। তখন পাশ থেকে আরেকজন ফোন নিয়ে আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করে। বলার পর থেকেই আমার ছেলের সাথে আমাদের আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’


তিনি আরও বলেন, ‘মাথার চুল একটু কাটা। পঁচা কাবারির বাঁশ নিয়ে ছাদ থেকে ফেলে বলেছে আমরা চড় থাপ্পর মেরেছি, মারার পরে বলে- আপনার ছেলে চারতলা থেকে ঝাপ দিয়েছে। আসলে তা নয়। আমার ছেলের পুরো শরীরজুড়ে মারের দাগ। সামনে থেকে পড়ে মরলে তার লাঞ্চ, মুখ তো ভালো থাকবে না। তার ক্ষত তো সামনে থেকে হবে। আমার বিটার গায়ে ঠেঙিয়ে মারা হয়েছে। আমার বিটার পুরো শরীর আমি দেখেছি। আমি মা, আমি সহ্য করতে পারছি না....(বলতে বলতে কেঁদে ওঠেন আজমুলের মা)। খানিক পরে আবার তিনি বলেন, ‘আমার বিটার পা দুই জায়গায় ভাঙা। রড দিয়ে কান চওলেবাড়ি মারা হয়েছে। তার সমস্ত শরীর চেচা। যারা তাকে ধুয়েছে (গোসল) তারা বলছে, সে ছাদ থেকে পড়ে মরেনি। তাকে চেচে মারা হয়েছে। পায়ের চামড়া তোলা। পায়ে ভাঙ্গা। তার বা হাত ভাঙ্গা। তার দুই দাবনায় ঠেঙানো হয়েছে।’


আজমলের চাচাতো ভাই রাকিব হোসেন বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সঠিক কারণে হয়ত পৌঁছাতে পারিনি। তবে যেটুকু ঘটেছে, সেটুকু বলতে পারি। শুক্রবার মেহেদি নামের ওর এক রুমমেট কল দেয় যে পার্টি হবে রাতে, চলে আয়। বিকেল চারটার ট্রেনে আজমল চলে যায় খুলনায়। রাত ১২টার সময় আমার কাকার মানে আজমলের আব্বুর কাছে আজমলের নাম্বার থেকে কল আসে। যে আপনার ছেলে মিল না দিয়ে ভাত খেয়েছে। সেটা আমরা ধরে ফেলেছি। আর ইতোপূর্বে হয়ত যা কিছু ঘটেছে, সেই পারপাস তার কাছে আমরা এক লাখের ওপর টাকা পাবো। আপনি টাকা নিয়ে দ্রুত চলে আসেন। আমার কাকু তখন ফোনে বলেছিলো, তোমরা কিছু করো না। আমি টাকা নিয়ে আসছি। ভোর বেলা কাকু যখন ওখানে পৌঁছায়, তখন স্থানীয় লোকজন বলে এখানে একজন মারা গেছে, ওইটা কি আপনার ছেলে? তখন বুঝতে পারে যে সে মারা গেছে।’


আজমলের পিতা পিতা কুতুব উদ্দীন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সে বাড়ি আসে। শুক্রবার ক্লাসের কথা বলে চলে যায়। রাত নয়টার সময়ও তার সাথে কথা হলো। রাতে ১২টার দিকে আমার ছেলের নাম্বার থেকে মেহেদী নামে একটি ছেলে আমার সাথে কথা বলে। আমার ছেলের কান্না শুনে আমি বুঝতে পারছি, কিছু একটা হয়েছে। মেহেদী বলে আপনাকে এক লাখ টাকা দিতে হবে। ছেলেকে যদি চান, তাহলে টাকা নিয়ে এখনি আসেন। আমি বললাম রাত হয়ে গেছে অনেক, সকালে আসলে কি হবে? মেহেদী বলে না, আপনার ছেলের ভালো চাইলে দ্রুত চলে আসেন। মেহেদী তখন আরও বলে, তুমি ট্রেনে আসবা না প্লেনে আসবা তোমার ব্যাপার, দ্রুত আসো। তখন আমি বলি আমি আসছি। এই মেহেদী যে এতোবড় কাল হবে, তা আমি কল্পনা করতেও পারিনি। আমি অনেকবার মোবাইলে চেষ্টা করেছি, সে ফোন রিসিভ করেনি। শনিবার ভোর ৬টায় আমি সেখানে গিয়ে পৌঁছায়। একজন চাচা বলে তোমরা কাকে খুঁজছো? তোমার বাড়ি কোথায়? তখন আমি বলি আমার বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। তখন সেই চাচা বলে, তোমার ছেলে মারা গেছে। তোমার ছেলের নাম আজমল না? আমি বললাম জ্বি চাচা। ওই চাচা আমাকে বলেছে, ওরা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিকল্পিতভাবে তোমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। ওরা তলায় এনে রেখে বলছে ছাদ থেকে পড়ে মরে গেছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমারা ছেলের রুমেও গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি, বালিশ-কাথা সব আওলানো। সে কত চিল্লানো চিল্লাইছে, আল্লাহ জানে....।’ আজমলের প্রতিবেশী ইছাহাক বলেন, ‘এতো ভালো ছেলে। সে সকলের সাথে মিশে থাকত। দশ বেলা না খেয়ে থাকলেও টু শব্দ করার ছেলে সে ছিল না। সে ভাত চুরি করে কেন খাবে? এইটা মিথ্যা অপবাদ।’ আজমলের গ্রামের বন্ধু সোহানুর রহমান বলেন, ‘আজমল একটা ভালো ছেলে। সে ভদ্র এবং নম্র। মিথ্যা কথা বলত না। সে ভাত চুরি করে কেন খাবে?’


উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন ওরফে আযমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলামনগর রোডের চারতলা একটি মেসে এই হত্যাকাণ্ড হয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় ৪৮ ঘণ্টা প্রাইভেট চেম্বার ও ক্লিনিক বন্ধের ঘোষণা