চুয়াডাঙ্গার বেসরকারি ‘উপশম নার্সিং হোম’-এ অস্ত্রোপচারের সময় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা রবগুল মোল্লার (৪৮) মৃত্যুর ঘটনায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে ক্লিনিকটির সার্বিক কার্যক্রম আপাতত বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, গতকাল রোববার পারিবারিক গোরস্তানে নিহতের দাফন সম্পন্ন হলেও, ঘটনার পরদিন গড়ালেও বা এই সংবাদটি লেখা অব্দি (রোববার রাত ১০টা) থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।
গতকাল রোববার চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ জানান, অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যুর চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. শ্যামল কুমার পালকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্ট (আইসিইউ) ডা. আফরোজা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজিদ হাসান। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, চরম শোক ও ক্ষোভের আবহেই গতকাল নিহতের নিজ গ্রাম সুবদিয়ায় সামাজিক গোরস্তানে রবগুল মোল্লার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। শনিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. এহসানুল হক তন্ময়ের মালিকানাধীন ওই ক্লিনিকে পিত্তথলি ও টিউমার অপারেশনের সময় ওটি টেবিলেই মারা যান সুবদিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রবগুল মোল্লা। রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকরা পালিয়ে গেলে এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষে ও চিকিৎসকদের খারাপ আচরণে স্বজন ও স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ক্লিনিকে দুই দফায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটান। পরে রাতে রাজনৈতিক ও স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ রহমান বলেন, ‘ক্লিনিকটির ওই ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্বজনদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে নিহতের স্বজনরা জানান, দাফন-কাফনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় এখন তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে পারিবারিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক