চুয়াডাঙ্গায় ইজিবাইকের রং ও রেজিস্ট্রেশন নিয়ে বাস মালিক-শ্রমিক এবং ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ইজিবাইকের নির্ধারিত রং করা, পৌরসভা থেকে ক্রমিক নম্বরের স্টিকার বা অনুমোদনপত্র সংগ্রহ এবং শহরে চলাচলের বিষয়ে আলোচনা হয়। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও পৌরসভাসহ অন্যান্য উপজেলার অধিকাংশ ইজিবাইক এখনও নির্ধারিত রং করেনি। একই সঙ্গে পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিয়ে ক্রমিক নম্বরের স্টিকার বা অনুমোদনপত্রও সংগ্রহ করেনি। কিছু ইজিবাইকের সামনের অংশে নামমাত্র রং করা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আপত্তি জানান বাস মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা।
সভায় বাস মালিক-শ্রমিক সমিতির প্রতিনিধিরা অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও অধিকাংশ ইজিবাইক এখনও নির্ধারিত রং করেনি এবং পৌরসভা থেকে ক্রমিক নম্বরের স্টিকার বা অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করেনি। এছাড়া বেশি লাভের আশায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার বাইরের ইজিবাইকও কমলা রং বা চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নির্ধারিত রং করে শহরের ভেতরে প্রবেশ করছে।
তারা বলেন, এর ফলে বাস মালিক ও শ্রমিকরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা না হলে ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে। চুয়াডাঙ্গার লাইসেন্স পরিদর্শক পলাশ জানান, এখন পর্যন্ত মাত্র ২০টি ইজিবাইক পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিয়ে ক্রমিক নম্বরের স্টিকার বা অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করেছে।
অন্যদিকে, ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক সমিতির প্রতিনিধিরা বলেন, মাইকিং করার পর কিছু ইজিবাইকের মালিক সামনের অংশে নির্ধারিত রং করেছেন। তবে আর্থিক সমস্যার কারণে অনেকেই পৌরসভা থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেননি। তারা আর্থিক বিষয়টি বিবেচনা করে আরও এক সপ্তাহ সময় এবং রেজিস্ট্রেশন ফি কিছুটা কমানোর অনুরোধ জানান।
পরে ইজিবাইক চালকদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ক্রমিক নম্বরের স্টিকার বা অনুমোদনপত্রের নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৭৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ইজিবাইকগুলোর রেজিস্ট্রেশনের জন্য আরও সাত দিন সময় দেওয়া হয়।
তবে এই সাত দিনও শহরের প্রধান তিনটি স্থান একাডেমি মোড়, কোর্ট মোড় ও চৌরাস্তা মোড়ে প্রশাসনের তদারকি থাকবে। সাত দিন পর অর্থাৎ ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এসময় অননুমোদিত ইজিবাইক আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘আপনাদের কাছ থেকে পৌরসভা রেজিস্ট্রেশন বাবদ ২ হাজার ৭০০ টাকা নিত। আপনাদের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে সাড়ে ১১০০ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন আপনারা নিজ দায়িত্বে পৌরসভা থেকে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করাবেন। যে পৌরসভায় যে রং নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই রং করে গাড়ি চালাতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকা বাধ্যতামূলক।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক প্রশাসক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) বি.এম. তারিক-উজ-জামান, টিআই আমিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি এম. জেনারেল, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন মুক্তা, ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, প্রচার সম্পাদক জুম্মোন আলীসহ সংশ্লিষ্টরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক