দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন ঝিনাইদহ জেলা শহরকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা এবং আধুনিক উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবিতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এক সুবিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় পায়রা চত্বরে 'ঝিনাইদহ জেলা রেললাইন ও মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন কমিটি'র উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পায়রা চত্বরে সমবেত হতে থাকেন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, ছাত্র-জনতা ও সুশীল সমাজের বিপুল উপস্থিতিতে মানববন্ধনটি এক বিশাল নাগরিক সমাবেশে পরিণত হয়।
বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এন এম শাহজালালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান পিন্টুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদ ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি প্রভাষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "কৃষি ও বাণিজ্যিক দিক দিয়ে ঝিনাইদহ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে আমরা যোগাযোগের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। পাশ্ববর্তী প্রায় সব জেলা শহরের ভেতর দিয়ে রেললাইন থাকলেও ঝিনাইদহ শহরের বুক চিরে আজও কোনো ট্রেন চলেনি। এটি শুধু অবকাঠামোগত বঞ্চনা নয়, ঝিনাইদহবাসীর প্রতি স্পষ্ট বৈষম্য। দ্রুততম সময়ে ঝিনাইদহ শহরকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না।"
স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকট তুলে ধরে জেলা জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মিল্টন ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সভাপতি তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, "ঝিনাইদহের প্রায় বিশ লাখ মানুষের জন্য বিশেষায়িত কোনো সরকারি চিকিৎসার সুযোগ নেই। মুমূর্ষু রোগীদের সামান্য জটিলতার সৃষ্টি হলেই খুলনা, ঢাকা কিংবা কুষ্টিয়া রেফার করতে হয়। পথিমধ্যে চিকিৎসার অভাবে বহু মানুষের করুণ মৃত্যু ঘটে। একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা ঝিনাইদহবাসীর কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের জীবন বাঁচানোর মৌলিক দাবি।"
বাসদের জেলা সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম ও প্রবীণ শিক্ষাবিদ সাবেক অধ্যক্ষ নাহিদ আক্তার বলেন, "একটি জেলার উন্নয়ন নির্ভর করে সঠিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত শিক্ষার ওপর। মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে একদিকে যেমন এ অঞ্চলের হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পাবে, অন্যদিকে আধুনিক চিকিৎসা সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। একই সাথে শহরকে রেল সংযোগের আওতায় আনলে স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।"
ঝিনাইদহ অফিস