চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বদরগঞ্জ মর্তুজাপুর গ্রামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আসিফ হায়দার। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় বিয়ের জন্য তৈরি করা গেট ভেঙে দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আয়োজন পণ্ড করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মর্তুজাপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ১৫ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আসিফ হায়দার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। পরে প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযানকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক ও এর আইনগত পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আসিফ হায়দার বলেন, “বাল্যবিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ। মেয়ের বয়স ১৮ বছর এবং ছেলের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ে দেওয়া যাবে না। বয়স সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কোনোভাবেই বিয়ের আয়োজন করা উচিত নয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়সে বিয়ে হলে মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই অভিভাবকদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতে মেয়েটিকে পুনরায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি। অল্প বয়সে বিয়ে হলে মেয়েদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন হতে হবে। কোথাও বাল্যবিয়ের আয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানাতে হবে।”
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. তাজুল ইসলাম, সিদুরিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শরীয়তউল্লাহ, সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই সদরুল আলমসহ পুলিশের সদস্যরা।
প্রতিবেদক সরোজগঞ্জ