আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার একটি বিরোধপূর্ণ বসতবাড়ির মালিকানা ও দেওয়ানি মামলাকে কেন্দ্র করে ভাসুর-জায়ের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের ঘটনা ঘটেছে। এক পক্ষ পুলিশের উপস্থিতিতে বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা ও গৃহকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনেছে আলমডাঙ্গা থানার এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, অপরপক্ষ দেবর ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রবাসীর জমি ও বাড়ি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টার পাল্টা অভিযোগ তুলে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আলমডাঙ্গা কাচারী পাড়ার মৃত আক্তারুজ্জামান বিশ্বাসের জার্মানি প্রবাসী স্ত্রী সুবর্ণা মুস্তারী রূপা এবং তার দেবর মো. ওহিদুজ্জামান লেন্টু ও জা ডালিয়ারা পারভীন শিলার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এই জমি নিয়ে আলমডাঙ্গা সিভিল জজ আদালতে বর্তমানে দুটি পৃথক দেওয়ানি মামলা (দেং ২৫/২৩ এবং দেং ২৫৫/২৩) বিচারাধীন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ডালিয়ারা পারভীন শিলা এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাদের জার্মানি প্রবাসী জা সুবর্ণা মুস্তারী রূপা, তার বর্তমান স্বামী মো. রিংকু এবং আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক মো. হোসেন আলীর নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল তাদের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। দেওয়ানি আদালত বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও পুলিশ পরিদর্শক হোসেন আলী তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে গৃহকর্তা ওহিদুজ্জামান লেন্টুর শার্টের কলার চেপে ধরে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই বিবাদী পক্ষ আবাসিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে পরিবারটিকে ভেতরে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক হোসেন আলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
এদিকে, পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী সুবর্ণা মুস্তারী রূপা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ২০১৩ সালে স্বামী আক্তারুজ্জামানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ও তার দুই মেয়ে স্থায়ীভাবে জার্মানিতে বসবাসের সুযোগে দেবর লেন্টু ও জা শিলা তাদের জমিসহ বাড়ি ও দোকানপাট দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশ উপেক্ষা করে তাদের অংশের প্রায় ৭ ফিট জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২ আগস্ট ২০২৬ তিনি দেশে ফিরে নিজ বাড়িতে যেতে চাইলে মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে তালা খুলতে বললে তারা পুলিশের সাথেও উসকানিমূলক আচরণ করে। সংঘাত এড়িয়ে আইনি উপায়ে নিজের ন্যায্য সম্পত্তি উদ্ধারে তিনি প্রবাসীদের সুরক্ষায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ চান।
চলমান দেওয়ানি মামলার মধ্যে একই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষই দেশের প্রচলিত বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক