দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের দুধপাতিলা গ্রামে সড়ক সংস্কারকাজে ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। জমির মালিকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের অনুমতি বা পূর্ব অবহিত না করেই তাদের জমি থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কের প্যালাসাইডিংয়ের একটি পিলারও রাস্তার সীমানা থেকে প্রায় ১০ ফুট ভেতরে তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে স্থাপন করা হয়েছে।
জমির মালিকদের দাবি, প্রায় ৩৫ শতক জমির একটি অংশ থেকে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ গাড়ি মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে জমির বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার কাজে ব্যবহারের জন্য জমির ওপর মাটি ফেলার কারণেও চাষযোগ্য জমির ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
জমির মালিক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান টিটু বলেন, দলিল অনুযায়ী তাদের জমির পরিমাণ ৩৫ শতক। তবে সংশ্লিষ্ট ম্যাপে ৩৬ শতক জমি উল্লেখ রয়েছে। জমিটির দুই পাশেই সড়কসংলগ্ন তাদের মালিকানাধীন জমি রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সড়ক সংস্কারের সময় তাদের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং আগে থেকেও কিছু জানানো হয়নি। জমির বিভিন্ন স্থান থেকে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ গাড়ি মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে জমির বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে আগের মতো ধান চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, রাস্তার কাজে ব্যবহারের জন্য আশপাশ থেকে কেটে নেওয়া মাটি জমির ওপর ফেলে রাখায় চাষযোগ্য জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জমির মালিকদের অভিযোগ, সড়কের প্যালাসাইডিংয়ের একটি পিলার রাস্তার কিনারে না বসিয়ে তাদের জমির প্রায় ১০ ফুট ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি কিংবা বিষয়টি জানানোও হয়নি। তাদের ভাষ্য, কাজের সময় তারা এলাকায় ছিলেন না। পরে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে জমির অবস্থা দেখে বিষয়টি জানতে পারেন। স্থানীয় কয়েকজন কাজের বিষয়ে আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এছাড়া কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় পরিবারের সদস্যদের ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে সড়ক সংস্কারকাজের ঠিকাদার আরিফ হোসেন জোয়ার্দ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘জোয়ার্দ্দার সাপ্লাইস’। তিনি নিজেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন। ঠিকাদার আরিফ হোসেন জোয়ার্দ্দার বলেন, প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির সংস্কারকাজ এখনো চলমান। কাজটির ব্যয় এক কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
জমির মালিকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সড়ক সংস্কারের প্রয়োজনেই রাস্তার আশপাশের মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। ওই মাটি অন্য কোথাও নেওয়া হয়নি। সড়কের শোল্ডার ও এজিং সুরক্ষার জন্যই মাটি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্যালাসাইডিংয়ের পিলার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে স্থাপনের অভিযোগ প্রসঙ্গে ঠিকাদার বলেন, কাজের সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। তারাই সরেজমিনে প্যালাসাইডিংয়ের অবস্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন। প্রায় ছয় মাস আগে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ করা হয়েছে। দিনের বেলায় প্রকাশ্যেই কাজটি হয়েছে। তখন আপত্তি জানানো হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেত।
এদিকে, জমির মালিকদের অভিযোগের পর সড়ক সংস্কারকাজ নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে আসলে কতটুকু মাটি নেওয়া হয়েছে, প্যালাসাইডিংয়ের পিলারটি সরকারি সড়কের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে রয়েছে কি না এবং এতে জমির কতটুকু ক্ষতি হয়েছে- এসব বিষয় সরকারি জরিপ ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তরের সরেজমিন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
জমির মালিকরা নিরপেক্ষভাবে জমি পরিমাপ করে সরকারি সড়কের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহার বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বলেন, ‘অনুমতি না নিয়ে অন্যের ধানিজমি থেকে মাটি কেটে রাস্তা সংস্কার করে থাকলে সেটা অন্যায় হয়েছে। আমরা তাকে মাটি কাটার অনুমতি দিইনি। জমির মালিকরা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক (দর্শনা অঞ্চল)