বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গায় বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর মারধর ও ২ লাখ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

  • আপলোড তারিখঃ ১০-০৯-২০২৬ ইং
আলমডাঙ্গায় বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর মারধর ও ২ লাখ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

আলমডাঙ্গায় জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের পাশাপাশি নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোছা. উমিয়া খাতুন (৪৫) নামের এক নারী। অভিযোগকারী উমিয়া খাতুন আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইতনপুর (কিলিপ মোড়) এলাকার বাসিন্দা ও মো. পীর মোহাম্মাদের স্ত্রী।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উমিয়া খাতুন উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা একই মহল্লায় পাশাপাশি বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি, রাস্তা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।


অভিযোগে বলা হয়, গতকাল বুধবার বেলা ৯টার দিকে বসতবাড়ির জমি নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মৃত ইয়াসিন দালালের ছেলে আজিজুল (৬০), নুর আলমের জামাই রাজু (৪০) ও মৃত কাশেমের ছেলে মো. রশিদ (৪৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন বাঁশের লাঠি ও হাসুয়া নিয়ে জোরপূর্বক তাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে তারা বসতঘর ভাঙচুর করে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


ঘর ভাঙার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা উমিয়া খাতুন ও তার স্বামীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়।


উমিয়া খাতুন আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে বসতঘরে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যান। এ ছাড়া তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানে থাকা লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত উমিয়া খাতুন ও তার স্বামীকে চিকিৎসার জন্য আলমডাঙ্গার হারদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে জানান অভিযোগকারী।


উমিয়া খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ঘটনার পরও তারা আমাদের ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’


অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আজিজুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিস্তারিত বিষয়ে সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে বলেন, ‘আমার বিষয়ে যে অভিযোগ আছে, থাকুক। মনে করেন, আমি ওদের মারব-তো আপনি কী বলতে চান, বলেন।’


সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘আপনি সাংবাদিক, আপনি গ্রামে আসেন। এসে তদন্ত করেন। আপনারা আমার নামে রিপোর্ট করেন, আপনারা যা ইচ্ছা তাই করেন।’ পরে তিনি আর কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি।’



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর মারধর ও ২ লাখ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ